ইরাভানি: যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী, ভুক্তভোগী নয়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161320-ইরাভানি_যুক্তরাষ্ট্র_আগ্রাসী_ভুক্তভোগী_নয়
পার্সটুডে- জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনই আগ্রাসী, ভুক্তভোগী নয়। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কোনো আইনি, রাজনৈতিক বা নৈতিক ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
(last modified 2026-07-15T05:51:28+00:00 )
জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:১৭ Asia/Dhaka
  • ইরাভানি
    ইরাভানি

পার্সটুডে- জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনই আগ্রাসী, ভুক্তভোগী নয়। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কোনো আইনি, রাজনৈতিক বা নৈতিক ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

পার্সটুডের খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লেখেন, ইয়েমেনে ইরান অস্ত্র পাঠিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য। তিনি বলেন, এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য বা স্বাধীন প্রমাণ নেই এবং এটি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ও অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর আরেকটি চেষ্টা।

ইরাভানি বলেন, এটি একটি মনগড়া অভিযোগ, যার উদ্দেশ্য নিরাপত্তা পরিষদকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে গুরুতর অপরাধ করছে, সেখান থেকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, ইয়েমেন এবং বৃহত্তর অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রধান দায় যুক্তরষ্ট্রের। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দিয়েছে এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অচল করে দিয়েছে।

ইরাভানি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী, ভুক্তভোগী নয়। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদের, বিশেষ করে অনুচ্ছেদ ২-এর ৪ নম্বর ধারা, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু তার অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি, বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। তাঁর দাবি, এসব হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং যুদ্ধ বন্ধ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত ইরানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই জলপথে পুনরায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটিয়েছে।#