জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কারসাজির ব্যাপারে আরাকচির সতর্কবার্তা
-
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
পার্সটুডে-ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, জ্বালানি বাজারে কারসাজি করার মার্কিন প্রচেষ্টার প্রকৃত মূল্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদেরই দিতে হবে।
পার্সটুডে আরও জানায়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কথিত প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাকচি লিখেছেন: আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ও মূল্যায়ন অনুযায়ী, জ্বালানি বাজারকে কারসাজি ও নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করার ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের কিছু ব্যক্তি সহজে প্রভাবিত হওয়া গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে জ্বালানির দাম প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে রাখতে চায়, যে যুদ্ধে তিনি ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছেন বলে আরাকচি দাবি করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত বিভিন্ন পক্ষও অতিরিক্ত আশাবাদী ও বাস্তবতাবিবর্জিত মূল্যায়ন তুলে ধরে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন-এই পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্য মার্কিন ভোক্তাদেরকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হস্তক্ষেপের লক্ষ্য শুধু সাময়িকভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং ইরান ও রাশিয়ার মতো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে তাদের তেল খাতের আয় কমিয়ে দেওয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে বাজারে পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করে ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ ধরনের নীতির ঝুঁকি হলো-জ্বালানি বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ ও পক্ষপাতদুষ্ট বিশ্লেষণ বাজারের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের মাত্রা নিয়ে অতিরঞ্জিত বা অবাস্তব মূল্যায়ন বাজারের স্বচ্ছতা ও আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর ফলে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। উৎপাদক দেশগুলো বাজেট পরিকল্পনায় সমস্যায় পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।
তবে এই নীতির সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, বাড়ির জ্বালানি এবং খাদ্যপণ্যের খরচও বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে যাদের কোনো ভূমিকা নেই, সেই সাধারণ মার্কিন জনগণকেই এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হতে পারে।
এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোও তেলের দামের ওঠানামার কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। এতে তাদের বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা সংকটে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং মিত্রদের সহায়তার উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও, সমালোচকদের মতে এটি শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী নীতিতে পরিণত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর বাড়তে পারে অর্থনৈতিক চাপ এবং বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও আরও কমে যেতে পারে।#
পার্সটুডে/এনএম/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন