সাফাভি: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়
-
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ ইয়াহিয়া সাফাভি
পার্সটুডে: ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ ইয়াহিয়া সাফাভি বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই এবং ইরানই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মেজর জেনারেল সাফাভি জ্বালানি ভূরাজনীতি এবং হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধে এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরান। ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও অঞ্চল ও বিশ্বে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সাফাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বুঝতে হবে যে ইরানকে পরাজিত করা যায় না। ইরানের রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা এবং সাহসী জনগণ।
তিনি আরও বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্ব ভূগোলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আনসারুল্লাহর মাধ্যমে ইয়েমেনের এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের পরাজয়ের দিকে আরও একটি পদক্ষেপ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
মেজর জেনারেল সাফাভি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করা মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে ইরানের বিজয় অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের জ্বালানি মজুতের দিক থেকে ইরান শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি এবং পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাপনার কারণে সৌদি আরব ও কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ নিজেদের জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানিতে সমস্যার মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ থেকে আটটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করছে এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
সাফাভি বলেন, সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা, যার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেল ও পেট্রলের দাম বেড়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ছাড়াই একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমেরিকানরা চলে যাবে; তারা এ অঞ্চলে থাকতে পারবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, কিন্তু সেই ব্যয়ের ক্ষেত্রেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই এবং ইরানই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ /২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।