সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত ভারত: রাজনাথ সিং
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163448-সন্ত্রাসবাদের_বিরুদ্ধে_যেকোনো_অভিযানের_জন্য_প্রস্তুত_ভারত_রাজনাথ_সিং
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তি চায়। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রতিবেশী কোনো দেশ যত দিন সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে ভারত।
(last modified 2026-09-27T12:41:46+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৮:৩৯ Asia/Dhaka
  • রাজনাথ সিং
    রাজনাথ সিং

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তি চায়। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রতিবেশী কোনো দেশ যত দিন সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে ভারত।

রোববার নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাজনাথ সিং। এক দিনের এই সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং শিল্প খাতের নেতারা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না কিংবা অন্য কোনো দেশকে হুমকি দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে না। তবে শান্তির অর্থ এই নয় যে, ভারত নিজের নিরাপত্তার প্রশ্নে নীরব থাকবে।

তিনি বলেন, ‘ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে শান্তিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। আমরা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা চাই, কিন্তু তা আমাদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বিনিময়ে নয়। হুমকির মুখে দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ যত দিন সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালানোর জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। এই বার্তাই আমরা তাদের এবং বিশ্বকে দিতে চাই।’

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ বলতে রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত সংলাপ ও সহযোগিতায় বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ যদি ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কিংবা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়, তাহলে সেই দেশের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

সম্প্রতি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার নীতি অব্যাহত রাখলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

রাজনাথ সিংয়ের ভাষায়, ভারত সহযোগিতা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা চায়, তবে জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বিনিময়ে নয়।

ভারতকে একটি সভ্যতাভিত্তিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

যুদ্ধের বিজয় নির্ধারিত হবে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে: সেনাপ্রধান

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরন, সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সরাসরি লড়াইয়ের সময়কাল কমিয়ে আনছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো যুদ্ধের সময়কালও কমে যাচ্ছে। বরং বর্তমান সংঘাতগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং মাঝেমধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পর বিরতি দেখা যাচ্ছে।

ভারতের সেনাপ্রধানের মতে, যুদ্ধের বিজয় নির্ধারণের সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তব মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। অতীতে যেমন ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে বিজয় নির্ধারিত হয়েছে, বর্তমানেও তা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

তিনি বলেন, ‘সাফল্যের একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর ভিত্তি সব সময়ই হবে ভূখণ্ড। ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতেই বিজয় অতীতে পরিমাপ করা হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আর সেই ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত রাখা ও প্রতিরক্ষা করা সম্ভব হবে কেবল সেনাবাহিনীর মাধ্যমে।’

১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণের ছবি স্মরণ করলেন সেনাপ্রধান

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির সময় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক ছবির কথা স্মরণ করেন ভারতের সেনাপ্রধান। তাঁর মতে, ছবিটি যুদ্ধের সমাপ্তির একটি সুস্পষ্ট মুহূর্ত তুলে ধরে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে এমন নির্দিষ্ট সমাপ্তি সব সময় দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আজ আমি ওই ছবিটির কথা বলছি, কারণ ছবিটি আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরেছিল। সেটিই ছিল সেই সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত, যখন যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু এখন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত বা সমাপ্তির বিন্দু নেই, যা দেখে বলা যায় যে শত্রুতা শেষ হয়েছে।’

সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান সংঘাতের সময়সীমা ক্রমেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে। কখনো তীব্র লড়াই হচ্ছে, আবার কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে বিরতি দেখা যাচ্ছে। ফলে এই সহস্রাব্দের যুদ্ধগুলোকে বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করা যায়।

তাঁর ভাষায়, ‘যুদ্ধে প্রযুক্তি অবশ্যই রণক্ষেত্রে লড়াইয়ের সময়কাল কমিয়ে আনছে, কিন্তু পুরো যুদ্ধের সময়কাল যে কমিয়ে আনছে, তা নয়। এই সহস্রাব্দের যুদ্ধগুলোকে সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করতে গেলে বলা যায়, এগুলো বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ। আসলে, বিরতিও সামরিক কৌশলের একটি অংশ হয়ে উঠছে।’

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের বিরতি মানেই সংঘাতের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নয়। বরং এটি সংঘাতের তীব্রতা ও ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মোকাবিলায় আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ভারতের সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধের ধরন ও সময়সীমার পরিবর্তন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আত্মনির্ভরতার কোনো বিকল্প নেই।

তাঁর মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারা বিজয়ী ও পরাজিতের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৭