'নামাজ পবিত্র জীবনের ভিত্তি, শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের অবলম্বন'
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163570-'নামাজ_পবিত্র_জীবনের_ভিত্তি_শয়তানি_শক্তির_বিরুদ্ধে_সংগ্রামের_অবলম্বন'
পার্সটুডে: নামাজ সম্মেলনে দেওয়া এক বার্তায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, "নামাজ মহান আল্লাহর অন্যতম সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এটি দ্বীনের সর্বোচ্চ প্রতীক ও স্তম্ভ এবং আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অফুরন্ত ঐশী উৎসের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম।"
(last modified 2026-10-01T08:59:18+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০২৬ ১২:০৫ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী
    আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

পার্সটুডে: নামাজ সম্মেলনে দেওয়া এক বার্তায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা জোর দিয়ে বলেছেন, "নামাজ মহান আল্লাহর অন্যতম সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এটি দ্বীনের সর্বোচ্চ প্রতীক ও স্তম্ভ এবং আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অফুরন্ত ঐশী উৎসের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম।"

ইরানের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (আইআরআইবি) বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, নামাজ সম্মেলনে দেওয়া বার্তায় হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী নামাজ প্রতিষ্ঠাকে সৎকর্মশীলদের শাসনের প্রথম ফল ও নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামী সমাজের পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে এর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সর্বব্যাপী বিস্তার অপরিহার্য।

তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষক ও অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নামাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতার বার্তাটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‘নামাজ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং বিশেষভাবে নামাজ সম্মেলন আয়োজন করা এমন কিছু প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য উদ্যোগ, যা সত্তরের দশকের শুরু থেকে কুরআনের শিক্ষক ও দক্ষ প্রচারক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন কারায়াতির প্রচেষ্টায় দেশে শুরু হয়েছে। মহান শহীদ নেতার এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব এবং গত ৩২টি নামাজ সম্মেলনে তাঁর বার্তাগুলোতে দেওয়া ধারাবাহিক ও জোরালো নির্দেশনাও এই নীতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

নিঃসন্দেহে নামাজ সম্পর্কে কথা বলা বা লেখা ওহির বাণী, মহানবী (সা.)-এর বাণী এবং নিষ্পাপ ইমামদের বাণীর মর্যাদার বিষয়। নামাজের গভীর জ্ঞান ও তাৎপর্য নিয়ে লেখার মতো যোগ্যতা আমার মতো ব্যক্তির কলমের নেই। কিন্তু ইসলামী সমাজের পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা এবং এর সেবকদের—বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্বের—দায়িত্ব এমন কিছু দাবি করে যে, নিজের জন্য এবং জনগণ ও কর্মকর্তাদের জন্য এ বিষয়ে কয়েকটি কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

নামাজ মহান আল্লাহর অন্যতম সুন্দর ও বড় নিয়ামত, দ্বীনের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, প্রতীক ও স্তম্ভ। এটি আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অসীম ও অফুরন্ত ঐশী উৎসের ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম।

নামাজ সাফল্য ও মুক্তির অমৃত, পবিত্র জীবনের ভিত্তি। এটি নফসের শয়তান এবং দুনিয়ার শয়তানদের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের দৃঢ় ও অব্যাহত অবলম্বন এবং অফুরন্ত পাথেয়। একই সঙ্গে এটি ভালোবাসা, আশা, দয়া ও প্রশান্তির প্রবহমান ঝরনা। নামাজ প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও রিজিকের প্রাচুর্য নাজিল হয় এবং তা বৃদ্ধি পায়।

তবে নামাজের ফরজ দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়। কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী, নামাজ প্রতিষ্ঠা সৎকর্মশীলদের শাসনের প্রথম ফল ও নিদর্শন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: ‘আমি যদি তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে।’

আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর পথে সংগ্রামকারীদের বিজয়ের প্রতিশ্রুতির আয়াতের পর সূরা হজে এই আয়াতের উল্লেখ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর স্মরণ, তাঁর প্রতি আশা ও আস্থার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে নামাজ প্রতিষ্ঠার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সেই সংগ্রাম ও বিজয়ের ময়দানে, যে ময়দান আজ ইরানি জাতির সামনে রয়েছে, সেখানে নামাজের গুরুত্ব বিশেষভাবে রয়েছে।

আজ যখন প্রিয় ইরানি জনগণের ক্ষমতা ও সক্ষমতার শর্ত আগের চেয়ে বেশি তৈরি হয়েছে, তখন গোটা জাতি নামাজ প্রতিষ্ঠার সেই বারবার উচ্চারিত ঐশী নির্দেশের মুখোমুখি—‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো।’

এ ছাড়া সমাজের সব প্রভাবশালী ব্যক্তি—বাবা-মা ও পরিবার থেকে শিক্ষক ও বন্ধু, অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবী থেকে পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব—এবং সব সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মসজিদ, জুমার নামাজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মী এবং জনগণের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন; বিশেষ করে যারা কিশোর ও তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

ইসলামের বিশুদ্ধ মুহাম্মদি আদর্শের পতাকা উত্তোলনকারী এবং ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় গর্বিত একটি সমাজ ও দেশে নামাজকে এর সব পর্যায় ও ক্রমবিকাশের স্তরে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী বিপ্লবের পর্যায় থেকে ইসলামী সমাজের পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য এটি অপরিহার্য। এরপরই ইসলামী সভ্যতার পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সমাজে নামাজকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, এর ব্যাপক ও সর্বজনীন প্রচলন এবং এরপর সুন্দরভাবে নামাজ আদায়ের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা—এই দুটি হলো এ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টার প্রধান দুটি দিক। মসজিদগুলোকে সমৃদ্ধ করা এবং জামাত ও জুমার নামাজের পরিমাণগত বিস্তার ও আনুষ্ঠানিক মান উন্নয়নের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এ লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত। এসব ক্ষেত্রে জামাত ও জুমার ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জনগণের আশ্রয়স্থল এবং মানুষের কথা শোনার ও তাদের দুঃখ-কষ্ট গ্রহণ করার মতো শ্রোতা হওয়া উচিত।

আমি আশা করি, মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং আমাদের প্রভু ইমাম মাহদির (আ.) বিশেষ দয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আমাদের প্রিয় জাতি ও দেশ নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং এর কল্যাণ ও বরকত লাভের ক্ষেত্রে সফল ও সমর্থ হবে।

সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

৯ মেহর ১৪০৫ (১ অক্টোবর ২০২৬)

পার্সটুডে/এমএআর/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।