ইরান বিরোধী প্রচার চালিয়ে এক চেটিয়া অস্ত্রের ব্যবসা করছে আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i16876-ইরান_বিরোধী_প্রচার_চালিয়ে_এক_চেটিয়া_অস্ত্রের_ব্যবসা_করছে_আমেরিকা
ছয়জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর ইরান বিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তারাও ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ১০, ২০১৬ ১২:৪০ Asia/Dhaka

ছয়জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর ইরান বিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তারাও ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, পরমাণু সমঝোতার পর ইরান অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করেছে এবং যে কোনো জায়গায় হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রেখেছে। কিছু দিন আগেও পেন্টাগন পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ইরানের বিশাল সামরিক মহড়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠকে ইরানের ব্যাপারে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে বলেছেন, আমেরিকা ও তার আরব মিত্ররা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবির উদ্দেশ্য ইরান আতঙ্ক তৈরি করা যার পেছনে আমেরিকা ও ইসরাইলের  হাত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের ব্যাপারে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে আরব দেশগুলোর সমর্থন লাভেরও চেষ্টা করছেন। আমেরিকা এমন সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছে যখন আরব দেশগুলোর কাছে তারা বিপুল অংকের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির পদক্ষেপ নিয়েছে।

আমেরিকা সৌদি আরবের কাছে ১১৭ কোটি ডলার মূল্যের ট্যাংকসহ অন্যান্য যুদ্ধ সামগ্রী বিক্রির কথা জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন গতকাল এ খবর দিয়েছে। বিদেশে অস্ত্র বিক্রি দেখাশোনাকারী মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক দফতর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাদের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কারণ আরব মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার হলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তাও জোরদার হবে।

এদিকে আরব দেশগুলোর অস্ত্র কেনার ধরণ সম্পর্কে এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা তাদের উদ্দেশ্য নয় বরং ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার অজুহাতে তারা এসব অস্ত্র কিনছে। এ থেকে বোঝা যায়, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পর পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তাকে বাধাগ্রস্ত করতেই সারা বিশ্বে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের এ নীতি এ অঞ্চলের দেশগুলোর সংকট সমাধানে কোনো ভূমিকা তো রাখবেই না বরং পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেবে। #   

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১০