অন্য দেশকে পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকুন: আমেরিকাকে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, আমেরিকার উচিৎ অন্য দেশকে পরামর্শ দেয়ার পরিবর্তে নিজ দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেয়া। তিনি ইরানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনের দাবিকে অযৌক্তিক, মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তার বিবৃতিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রশ্নে ইরান বিরোধী মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনকে শত্রুতামূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তার সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। বাহরাম কাসেমি আরো বলেছেন, সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমেরিকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলমানদের অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন সরকারের উচিৎ অন্য দেশকে পরামর্শ দেয়ার পরিবর্তে আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলমানদের অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেয়া।
বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, আমেরিকা ও ইউরোপে ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই মুসলমানদের ওপর শারিরিক নির্যাতন, অবমাননা ও সম্মানহানি সংক্রান্ত নানা খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাশ্চাত্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং কানাডা ও আমেরিকায় ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার আশঙ্কাকাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
বর্তমান মার্কিন সমাজে এক গ্রুপের ওপর অন্য গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের যে প্রবণতা শুরু হয়েছে তা থেকে পাশ্চাত্যে মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে। মানবাধিকারের দাবিদার ইউরোপীয় দেশগুলোতেও বৈষম্য ও মানবতা বিরোধী চেতনা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। মার্কিন ফেডারেল পুলিশ এফবিআইএ’র এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমেরিকায় একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির হাতে গড়ে প্রতিদিন একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হয়। এমনকি বিচারের ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য চলছে।
আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর জুলুম নির্যাতন ছাড়াও কিউবার গুয়ান্টানামো বে ও ইরাকের আবু গ্বারিব কারাগারে বন্দীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা মার্কিন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু দৃষ্টান্ত মাত্র। এসবই পাশ্চাত্যে মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণের প্রমাণ।
আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে জাতিসংঘ পর্যন্ত ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করার পরও মার্কিন কর্মকর্তারা নিজেদেরকে মানবাধিকারের সমর্থক বলে দাবি করছেন এবং অন্য দেশের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন আচরণ ও কর্মকাণ্ড শুধু যে চরম মানবতা বিরোধী এবং তারা যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে তাই নয় একই সঙ্গে তারা এ ইস্যুকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৪