মার্কিন কংগ্রেসের ইরান-বিদ্বেষী ভূমিকা ও এর সম্ভাব্য পরিণতি
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আবারও ইরান-বিরোধী একটি বিল অনুমোদন করেছে। নতুন বিলে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দেশটির সরকার ইরানের অতীতের পাওনা নগদ অর্থ পরিশোধ করতে পারবে না।
রিপাবলিকানদের কর্তৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যের ভোটে পাস হয়েছে এই বিল। বিলটি পাস হওয়ার আগের দিন ইরান-বিরোধী আরও একটি বিল তারা পাস করেছেন। ওই বিলে বলা হয়েছে, দেশের বাইরে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের যেসব সম্পদ রয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন সংসদ সদস্যদেরকে তথ্য দিতে হবে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে।
একদিকে যখন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের কাছে বোয়িং ও এয়ারবাস বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে তখনই ইরান-বিরোধী এইসব নতুন তৎপরতার খবর এলো। যদিও হোয়াইট হাউজ এর আগে বলেছিল, ইরানের সঙ্গে ৬ জাতির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির ওপর আঘাত হানার লক্ষ্যে তৈরি-করা যে কোনো বিল বা প্রস্তাবে ভেটো দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
পরমাণু-সমঝোতার আলোকে মিত্রদের চাপের মুখে মার্কিন সরকার ইরানের কাছে যাত্রীবাহী বিমান বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ৪০ বছরের পুরনো ওই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত তেহরানের কাছে বিমান সরবরাহ করবে কিনা তা দেখার জন্য আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।
মার্কিন সরকার একদিকে পরমাণু-সমঝোতার আলোকে ইরানের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও অন্যদিকে মার্কিন সাংসদদের ইরান-বিদ্বেষী তৎপরতা এই চুক্তির এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিত্রই তুলে ধরছে। মার্কিন কংগ্রেসে ইরান-বিদ্বেষী লবিগুলোর জোর তৎপরতাকে দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকার কতটা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মার্কিন ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টও ইরান-বিরোধী লবিগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ইসলামী এই দেশটির বিরুদ্ধে আইনি দিক থেকে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক রায় দিয়েছে।
এটা স্পষ্ট, মার্কিন কর্মকর্তাদের অব্যাহত ইরান-বিদ্বেষী ভূমিকা ও উস্কানিমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই এ ধরনের তৎপরতা চলতে থাকলে এই পরমাণু সমঝোতার মৃত্যু ঘটাও মোটেই অস্বাভাবিক হবে না। আর তা ঘটলে ইরানের চেয়ে মার্কিন সরকারই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/২৩