ওআইসি থেকে ইরানকে বের করে দিতে চায় সৌদি আরব
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য সৌদি আরব ও তার সমর্থক দেশগুলো ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি বলে প্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় তারা সারা বিশ্বকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাজতন্ত্রশাসিত আরো কয়েকটি আরব দেশ জাতিসংঘে লেখা চিঠিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। আর সৌদি আরবের উস্কানিতেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ওই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। এমনকি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিতেও তারা ইরান বিরোধী তৎপরতা জোরদার করেছে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান তারেখ আশ্ শেইখান বলেছেন, তারা ওআইসি থেকে ইরানকে বহিষ্কার করতে চায়। ইরান ইয়েমেনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তিনি সব দিক থেকে ইরানকে পুরোপুরি একঘরে করে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সব মুসলিম দেশকে। পিজিসিসি'র এই কর্মকর্তা দাবি করেন, তার ভাষায় আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের হস্তক্ষেপের কারণে এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মিশরের রাজধানী কায়রোয় অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাস থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান এ অঞ্চলে বৈরী নীতি অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে দূতাবাসের বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনে এখন যা ঘটছে তার জন্য ইরানই দায়ী এবং এর উদ্দেশ্য এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।
বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের ইরান বিরোধী তৎপরতাকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। প্রথমত, ইয়েমেন সংকটের দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে ইয়েমেনে তাদের অন্যায় যুদ্ধ বা আগ্রাসনের বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি আরব এ অঞ্চলে বিরাজমান নৈরাজ্য ও উত্তেজনা সৃষ্টিতে ইরানকে জড়াতে চায়। অথচ গত দেড় বছর ধরে সৌদি আরব নৃশংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের নিরীহ জনগণের ওপর।
সৌদি আরবের ইরান বিরোধী তৎপরতার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ অঞ্চলের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করা। অবশ্য ইরানে ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকেই সৌদি আরব তেহরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। এ লক্ষ্যে তারা সাদ্দামকে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল এবং সাদ্দামকে সব রকম সহযোগিতা দিয়েছিল রিয়াদ। এমনকি ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোকে নিয়ে পিজিসিসি'র মতো বিভিন্ন জোট গঠন করে যাতে সম্মিলিতভাবে ইরানকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা যায়।
শুধু বিদ্বেষের কারণেই সৌদি আরব পরমাণু ইস্যুতেও ইরানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। তারা পরমাণু সমঝোতারও তীব্র বিরোধিতা করেছিল। ওপেকে ইরান বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে এমনকি হজের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানকেও ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি আরব। একই লক্ষ্যে তারা গত বছর হজের সময় মিনা বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এভাবে একের পর এক অপরাধ করে চলেছে সৌদি আরব কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো লক্ষ্যেই পৌঁছতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত নীতির কারণে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে আজ আগুনে জ্বলছে। সৌদি আরবের কারণেই ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে যে সংকট শুরু হয়েছে তার ফলে কেবল দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলই লাভবান হচ্ছে আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলমানরা। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২১