ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে মার্কিন বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলল ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভিত্তিহীন এবং উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছে তেহরান।
ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে জুলাই মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ প্রস্তাব লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে গতকাল(বুধবার) দাবি করেছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লাইন। ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ’কে অনুমোদন দিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রস্তাব।
ফ্লাইন আরো বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইরানকে হুঁশিয়ার করেছে আমেরিকা।
কিন্তু পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম যে কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকার আহ্বান ইরানকে জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ প্রস্তাব। এ ছাড়া, এ রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে বিরত থাকা আহ্বানও এতে জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি আজ (বৃহস্পতিবার) ফ্লাইনের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে একে ভিত্তিহীন, পুনরাবৃত্তি এবং উসকানি মূলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই পরমাণু বোমা বহন উপযোগী করে তৈরি করা হয় নি।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে এ কথা যখন কারো অজানা নয় তখন এ মন্তব্য করা হলো বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক, গোয়েন্দা এবং নানা সহায়তা পাচ্ছে এ সব গোষ্ঠী।
কাসেমি দুঃখ করে বলেন, ইরানের সন্ত্রাস বিরোধী অব্যাহত লড়াইয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বরং ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া, এমন সব অবিবেচক নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে তা কার্যত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, দায়েশের মতো সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বৈধ সরকারগুলোর সঙ্গে যদি ইরান সহযোগিতা না করতো তা হলে এ অঞ্চলের অনেক রাজধানীরই সন্ত্রাসীদের হাতে পতন ঘটতো।
এমন বিবৃতি দেয়ার মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণ হলো মার্কিন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আইনের বা নীতি বা আচরণের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধা নেই বলেও জানান তিনি।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২