মার্কিন সিনেটে ইরান বিরোধী প্রস্তাব অনুমোদন; পাল্টা ব্যবস্থা নেবে তেহরান
মার্কিন সিনেট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ‘ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ মোকাবিলা-২০১৭’ নামের বিলটি বৃহস্পতিবার সিনেটে ৯৮-২ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হতে হলে এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্টকে তাতে স্বাক্ষর করতে হবে।
এই বিল মার্কিন সিনেটে পাস হওয়ার আগে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছিলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ২৯ নম্বর ধারায় আমেরিকা এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে ওয়াশিংটন বিরত থাকবে।
বিলটি পাস হওয়ার পর এ সম্পর্কে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র হোসেইন তাকাভি হোসেইনি বলেছেন, এটি পাস করে মার্কিন সিনেট সুস্পষ্টভাবে পরমাণু সমঝোতাকে লঙ্ঘন করেছে।
সিনেটে এই বিলের বিপক্ষে ভোট দানকারী ভেরমন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এটি পাস হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পরমাণু সমঝোতা বিপদের মুখে পড়বে এবং সে রকম ঝুঁকি নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী যেকোনো দেশ যেকোনো অজুহাতে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাকে এই সমঝোতার লঙ্ঘন বলে ধরে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশন পাল্টা প্রস্তাব তৈরি করছে যা শিগগিরই পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে বলে হোসেইনি জানিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটে অনুমোদিত প্রস্তাবে ইরানকে কথিত সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এমন সময় এ অভিযোগ উত্থাপন করা হলো যখন ইরান নিজেই আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি পৃষ্ঠপোষকতা গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদের শিকার। উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক বছর ধরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এ ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর চেপে বসা স্বৈরশাসক ও অবৈধ রাজা-বাদশাহরা হচ্ছে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আরেকটি মূল উপাদান। এই দুই উপাদানের প্রতিই রয়েছে আমেরিকার সুস্পষ্ট সমর্থন।
অথচ মার্কিন সিনেট মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল পাস করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকার এ পদক্ষেপ থেকে আরেকবার ইরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের দ্বৈত আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেল যে আচরণ শুরু হয়েছে প্রায় ৪০ বছর আগে ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর। #
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৬