ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে তিন দেশ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i53413-ইয়েমেন_ইস্যুতে_ইরানের_বিরুদ্ধে_পদক্ষেপ_নেয়ার_চেষ্টা_করছে_তিন_দেশ
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের শরীক ওই তিনটি দেশ নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্যই ইরান বিরোধ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ ১৪:২৭ Asia/Dhaka

ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের শরীক ওই তিনটি দেশ নিজেদের অপরাধ আড়াল করার জন্যই ইরান বিরোধ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

পাশ্চাত্য বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি করার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব প্রণয়ন করছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত তাদের কোনো অভিযোগেরই ভিত্তি নেই এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গঠনমূলক ও ইতিবাচক কার্যক্রমকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি দুইবার কিছু লোহালক্কড়ের ভাঙা টুকরা দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, ইয়েমেনসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও সংকট সৃষ্টিতে ইরানের হাত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের কাছে ইরান অস্ত্র পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করা শুরু করেন। কিন্তু তার কোনো অভিযোগই ধোপে টেকেনি এবং প্রতিবারই ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

এটা সবারই জানা আছে যে, আমেরিকার সবুজ সংকেতে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এমনকি আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ও পাইলট ইয়েমেনে চলমান গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আমেরিকা ও ব্রিটেনের দেয়া নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে যা কিনা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ। কিন্তু তারপরও হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের কাছে ইরান অস্ত্র পাঠাচ্ছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইয়েমেনে সৌদি ও পাশ্চাত্যের অপরাধযজ্ঞকে ধামাচাপা দেয়া।

এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, "ইয়েমেনকে আকাশ, স্থল ও নৌপথে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং অবরোধের ফলে দরিদ্র এ দেশটিতে দুর্ভিক্ষ ও নিরাময় অযোগ্য নানান রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় ইয়েমেনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র পাঠানোর দাবি হাস্যকর এবং বানোয়াট। কিন্তু এ ভাবে তারা ইয়েমেনে নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে পারবে না।"

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অভিযোগ ও নতুন ষড়যন্ত্র সফল হবে না। কারণ এই তিনটি দেশ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য অন্য দেশগুলোর কাছে ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যৌক্তিক কোনো কারণ তুলে ধরতে পারবে না।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়ার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। রুশ প্রতিনিধি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে, ইয়েমেনের ন্যাশনাল সালভেশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আব্দেল আজিজ বিন হাবতুর তার দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "ইয়েমেনিরা কখনই ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পায়নি।" 

যাইহোক, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। রাজনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংকট অবসানের জন্য ইরান চারটি প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপন করেছে। ইয়েমেন ইস্যুতে তেহরানের নীতি অবস্থান স্পষ্ট এবং এ নীতি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের ষড়যন্ত্র ইরানের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২