ইরানের বিরুদ্ধে ফের মার্কিন অভিযোগ ও বাস্তবতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i58144-ইরানের_বিরুদ্ধে_ফের_মার্কিন_অভিযোগ_ও_বাস্তবতা
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে। ২০১৭ সালে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে ওই অভিযোগ তোলা হয়।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ৩০, ২০১৮ ১৩:২১ Asia/Dhaka

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে। ২০১৭ সালে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে ওই অভিযোগ তোলা হয়।

ইরানে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত যত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার লক্ষ্য একটাই, আর তা হচ্ছে ইরানভীতি সৃষ্টি করা এবং এ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। ১৯৯৮ সালে মার্কিন কংগ্রেস বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে বেশ কিছু আইন অনুমোদন করে। ওই আইনের ভিত্তিতে প্রতি বছর অন্যান্য দেশের ধর্মীয় ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৯৯৯ সালে মানবাধিকার বিষয়ে উদ্বেগজনক দেশগুলোর তালিকায় ইরানের নাম নথিভুক্ত করা হয়। 

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ইরানকে ইসরাইলের বিরোধিতাকারী এবং ইহুদি বিদ্বেষী শ্লোগান দাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবকে আমেরিকা ভয়ঙ্কর, ভীতিকর ও মানবতা বিরোধী হিসেবে প্রচার চালায়। হলিউডে বিভিন্ন চলচ্চিত্র তৈরির মাধ্যমেও ইরানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে আমেরিকা। হলিউড নির্মিত যেমন পার্সে পোলিস, ফারর আয তেহরান অর্থাৎ তেহরান থেকে পলায়ন, তারসে মোকাদ্দাস অর্থাৎ পবিত্র ভয় এবং বেদুনে দুখতারাম হারগেজ অর্থাৎ আমার কন্যা ছাড়া কখনই নয় প্রভৃতি চলচ্চিত্রের কথা উল্লেখ করা যায়। এসব চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইরানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন, দেশটিতে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের দমনের নানা মিথ্যা কল্পকাহিনী প্রচার করে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টি করাসহ নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

'ড্যাভিডিয়ান' সম্প্রদায়ের ওপর মার্কিন সরকারের নিষ্ঠুর গণহত্যা

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন সময় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপারে মিথ্যা ও মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করল যখন দেশটি নিজেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ স্বরূপ আমেরিকার টেক্সাসে 'ভাকু' এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি শাখা 'ড্যাভিডিয়ান' সম্প্রদায়ের ওপর মার্কিন সরকারের নিষ্ঠুর গণহত্যার কথা উল্লেখ করা যায়। ৫০ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার পর ওই সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ জন ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ২০টি শিশু এবং দু'জন গর্ভবতী মহিলাও ছিল। ওই ঘটনা আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

আমেরিকার ইতিহাসে ওই নৃশংসতম গণহত্যার কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের জনগণের মানবাধিকারের ব্যাপারে মায়াকান্না দেখাচ্ছে অথচ তারা কি আদৌ মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী? আফগানিস্তানকে তারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, মার্কিন সেনারা ইরাককে পায়ের তলায় পিষে মারছে, দখলদার ইসরাইলকে আমেরিকাই সর্বাত্মক সাহায্য সমর্থন যোগাচ্ছে, তারাই 'ড্যাভিডিয়ান' খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।" আমেরিকা এভাবেই একের পর এক দেশে-বিদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে তাহলে তাদের কাছে মানবাধিকারের অর্থ কি?-এমন প্রশ্ন তোলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মানবাধিকারের দাবিদাররা ইসলামি ইরানের সংবিধানকেও উপেক্ষা করছে যেখানে সব ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। আমেরিকা নিজেই যেখানে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে সেখানে অন্য দেশের ব্যাপারে কথা বলার কোনো অধিকার তাদের নেই।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০