যেসব কারণ দেখিয়ে মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে গেল আমেরিকা
আমেরিকা আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে। এবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) থেকে বেরিয়ে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি আমেরিকার এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দাবি করেছেন, ভেনিজুয়েলা ও ইরানের মতো দেশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে ইউএনএইচআরসি'র নীরবতার কারণেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনাকেও মার্কিন এ সিদ্ধান্তের আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা গত কয়েক বছর ধরে জাতিসংঘের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের মতো ইউএনএইচআরসিকেও নিজের অবৈধ রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। আমেরিকা সবসময়ই মানবাধিকার বিষয়কে অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং এমনকি তারা এ অজুহাতে দখলদার ইসরাইলের অপরাধী কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। ফলে আমেরিকা বিভিন্ন দেশে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের সম্মুখীন হচ্ছে। ইউএনএইচআরসিকে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে না পারায় আমেরিকা শেষ পর্যন্ত এ সংস্থা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিল। এর আগেও আমেরিকা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ট্রান্স প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, ইউনেস্কো এবং সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে ছয়জাতি গোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) থেকে ওয়াশিংটন এমন সময় বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল যখন দেশটির অভিবাসন আইন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওই আইন অনুযায়ী অভিবাসী পিতামাতাদের থেকে তাদের শিশুদের আলাদা করা ও অভিভাবকদের গ্রেফতারের নির্দেশ থাকায় সারা বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে মানবাধিকার, মানবতা ও নীতি-নৈতিকতা বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে একে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে নাৎসিদের জুলুম-নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের হাই কমিশনার যেইদ রাআদ আল হোসেইন মেক্সিকো থেকে আসা অভিবাসীদেরকে তাদের সন্তানদের থেকে আলাদা করার ঘোষণা স্থগিত করার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা শুধু অভিবাসী পিতামাতা থেকে সন্তানদের আলাদা করা কিংবা শিশুদেরকে জেলখানায় পাঠানোর মতো অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কিউবার গুয়ান্টামো বে, ইরাকের আবু গ্বারিব ও আফগানিস্তানের বাগরাম জেলখানায় মার্কিন সেনারা যে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে তা আমেরিকার ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে আছে। এ ছাড়া, আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার খর্ব করা, অভিবাসীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি এবং দখলদার ইসরাইল, বাহরাইন ও সৌদি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতি সমর্থন প্রভৃতি আমেরিকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু দৃষ্টান্ত।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা যেখানে নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে সেখানে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক বিষয় এবং এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০