প্রবল অর্থনৈতিক শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কাজে লাগাব: পম্পেও'র হুমকি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i59464-প্রবল_অর্থনৈতিক_শক্তিকে_ইরানের_বিরুদ্ধে_কাজে_লাগাব_পম্পেও'র_হুমকি
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, "ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে তাহলে দেশটি আন্তর্জাতিক সমাজের ক্ষোভের মুখে পড়বে।" তিনি বলেন, "বিশ্ব সমাজ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে যা দেশটির জন্য কল্যাণকর হবে না।"
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জুন ২৪, ২০১৮ ১৪:২৩ Asia/Dhaka
  • মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও
    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, "ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে তাহলে দেশটি আন্তর্জাতিক সমাজের ক্ষোভের মুখে পড়বে।" তিনি বলেন, "বিশ্ব সমাজ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে যা দেশটির জন্য কল্যাণকর হবে না।"

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও আরো বলেন, "আমরা যখন ক্ষোভ চরিতার্থ করার কথা বলি তখন সেটাকে সামরিক পদক্ষেপ মনে করলে ভুল হবে বরং লক্ষ্য আমাদের অর্থনৈতিক শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো। আমরা সামরিক অভিযানের পক্ষপাতি নই আর যদি তা সামরিক পর্যায়ে গড়ায় তাহলে তা কারোর স্বার্থই রক্ষা করবে না।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তারই অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে এসব অবান্তর কথাবার্তা বলেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, মার্কিন অন্যায্য দাবি মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও কিছুদিন আগে সংলাপে বসার জন্য ইরানকে ১২টি শর্ত দিয়েছিলেন যাকিনা সংবাদ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। ওই ১২টি শর্ত বা প্রস্তাবে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে প্রভাব খাটানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। মোটকথা, পম্পেওর এসব কথাবার্তার অর্থ হচ্ছে ইরানকে পুরোপুরি আমেরিকারে কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৮মে একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য অবশিষ্ট দেশগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছে যাতে ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কারো ওপর না পড়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান নাথাঞ্জ পরমাণু প্রকল্পে নতুন সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনের কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন পরমাণু সমঝোতার আওতায় থেকেই ফের কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকবে আবার পরমাণু সমঝোতাও টিকে থাকবে এমন পরিস্থিতি আমরা মেনে নেব না। ইরান নিজের স্বার্থ বজায় রেখে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য বর্তমানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তির অন্যতম পক্ষ রাশিয়া ও চীন পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন তার প্রবল অর্থনৈতিক শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও ধারণা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানকে নতজানু করা যাবে এবং আমেরিকার ইচ্ছামতো নতুন চুক্তিতে সই করতে তেহরানকে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু গত ৪০ বছরের ইতিহাসে ইরান-মার্কিন সম্পর্কের দিকে তাকালে দেখা যাবে ইরান কখনই আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে আমেরিকা ভালোভাবেই অবহিত আছে এবং তারা এটাও জানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

এ কারণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ক্ষোভ চরিতার্থ করার অর্থ হচ্ছে সামরিক নয় বরং আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। #   

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪