ইরান নতজানু হচ্ছে- পম্পেও'র দাবি : শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবে- রুহানি
আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেছেন, মার্কিন প্রচণ্ড চাপের কারণে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
তিনি গতকাল (বুধবার) সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে ইরানের ব্যাপারে মার্কিন নীতি নির্ধারণ সম্পর্কিত বৈঠকে এ দাবি করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো দাবি করেন, "ইরান পাঁচ মাস আগের শক্ত অবস্থানে নেই এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার পর ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানকে কাবু করে ফেলেছে।" মাইক পম্পেও বলেন, "আমরা চাই না ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করুক।" মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে তেহরানকে পুরোপুরি পাশ্চাত্য বিরোধী হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, "ওয়াশিংটন মিত্রদের সহযোগিতায় ইরানের তেল বিক্রির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা ইরানকে নতজানু করার জন্য সব রকম চেষ্টা ও কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া, ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা চালিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে ইরান আলোচনায় ফিরে এসে আমেরিকার সঙ্গে আপোষ করতে বাধ্য হয়।
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এটা প্রমাণিত হয়েছে ইরান কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশটি আর্থ-রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখবে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের ইচ্ছাকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি একদিকে হুমকি ও অন্যদিকে আলোচনায় বসার মার্কিন প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, হুমকি দিয়ে ইরানকে একপেশে আলোচনায় বসানোর চিন্তা থেকে আমেরিকাকে অবশ্যই সরে আসতে হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে সংলাপ অন্যদিকে হুমকি দিয়ে স্বার্থ আদায়ের মার্কিন চেষ্টা হয়তো অন্য দেশের ব্যাপারে সফল হতে পারে যারা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হাজার হাজার বছরের সভ্যতার অধিকারী ইরান স্বাধীন নীতি নিয়ে চলে এবং দেশটি আমেরিকার চাপের কাছে কখনই নতি স্বীকার করবে না। ইসলামি ইরান অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি, ভূ-কৌশলগত অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান দেশটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজকের ইরান আমেরিকার মোকাবেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিজয় লাভ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, "বেশিরভাগ দেশ মার্কিন নীতিকে ভুল আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেছে কিংবা অন্তত দুঃখ প্রকাশ করেছে।" তিনি বলেন, "এসবই ইরানের প্রতিরোধের ফল। তাই আমাদের উচিত সব ক্ষেত্রে শত্রুর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া।"
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৬