মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সৌদি সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু: জাতিসংঘে ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i65942-মানবাধিকার_ও_গণতন্ত্র_সৌদি_সরকারের_সবচেয়ে_বড়_শত্রু_জাতিসংঘে_ইরান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মোয়াল্লেম মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। সৌদি প্রতিনিধি এমন সময় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন যখন ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি এবং রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার জন্য রিয়াদের ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ১৯, ২০১৮ ১২:৪৬ Asia/Dhaka
  • মোহাম্মদ হাসানি নেজাদ
    মোহাম্মদ হাসানি নেজাদ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মোয়াল্লেম মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। সৌদি প্রতিনিধি এমন সময় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন যখন ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি এবং রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ব্যাপারে জবাবদিহিতা করার জন্য রিয়াদের ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ বৈঠকে সৌদি অভিযোগের জবাবে ইরানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসানি নেজাদ বলেছেন, সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে যদি সামান্যতম বিবেকবোধ ও লজ্জা থেকে থাকত তাহলে তারা চুপচাপ থাকত এবং ইরানে মানবাধিকার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করত না। পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগ বা সম্ভাবনাকে সৌদি আরব ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি বলেন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র দুর্নীতিবাজ সৌদি সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু। সৌদি ‌আরব ইয়েমেনের স্কুল বাসে বিমান হামলা চালিয়ে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তা উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের নৃশংসতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আমেরিকার সহায়তা নিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পাশাপাশি আকাশ, স্থল ও সমুদ্র পথে দেশটিকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সৌদি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে ১৪ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ নিহত, হাজার হাজার মানুষ আহত এবং লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। স্কুল বাসে সৌদি বিমান হামলায় ৫২টি শিশু নিহত এবং ৭৯জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতি আইন অনুযায়ী এ অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি যেমনটি বলেছেন, সৌদি ওয়াহাবি মতবাদ সারা বিশ্বে আলকায়দা, তালেবান, দায়েশসহ অন্যান্য উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম দিয়েছে।

আরব বিশ্বের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আল আতাওয়ান দৈনিক রাই আল ইয়াওমে এক নিবন্ধে লিখেছেন, ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞে আমেরিকাও শরীক হওয়ার কারণে আরব ও পাশ্চাত্যের গণমাধ্যম সৌদি আরবকে সমালোচনা করা থেকে বিরত রয়েছে।

ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকা সৌদি আরবের কাছে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। এসব অস্ত্র দিয়ে সৌদি আরব সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে এবং সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে, মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌদি আরব আন্তর্জাতি সামাজিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ দেশটি আন্তর্জাতিক কোনো রীতি তোয়াক্কা করে না। এ অবস্থায় ইরানে মানবাধিকারের ব্যাপারে সৌদি অভিযোগ হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয় বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন