ইরান আলোচনায় বসতে চায়: ট্রাম্প; আমরা সংলাপের কোনো প্রস্তাবই দেইনি: তেহরান
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। তিনি এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে এও দাবি করেছেন ইরানের অবস্থান খারাপ হয়ে যাওয়ায় দেশটি সংলাপে বসতে আগ্রহী।
অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও বহুবার ইরানের আগ্রহের ব্যাপারে এ ধরণের মিথ্যা দাবি করে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ বাস্তবতা ঠিক উল্টো। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই গত দুই বছরে বহুবার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি এও বলেছেন, ইরান যদি হোয়াইট হাউজে শুধু একটা বার ফোন করে তাহলেই ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অবকাশে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আমেরিকা ইরানের সঙ্গে মুখে আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে তারা ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আবারো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অথচ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে এ পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং এখন নিজেদেরকে শান্তিকামী ও আলোচনাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ যে কোনা সংলাপ শুরুর আগে প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়া থেকে বিরত থাকা।
ইসলামি ইরান বহুবার জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন যদি আবারো তেহরানের সঙ্গে সংলাপে বসতে চায় তাহলে আমেরিকাকে অবশ্যই পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে। অর্থাৎ তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হলে ওয়াশিংটনকে অতীত ভুল সংশোধন করে ইরানের ব্যাপারে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি সংলাপে বসতে ইরানের আগ্রহ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির জবাবে বলেছেন, তিনি এমন এক দাবি করেছেন বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনো মিল নেই। কারণ ইরান কখনোই আলোচনার প্রস্তাব দেয়নি।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭