মানবাধিকার প্রতিবেদন: পশ্চিমা দ্বৈতনীতি ও রাজনৈতিক প্রতারণা
-
মানবাধিকার কাউন্সিল ও জাভিদ রাহমান
ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জাভিদ রাহমান তেহরান সম্পর্কে অবাস্তব প্রতিবেদন করেছে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইরানের বিচার বিভাগীয় মানবাধিকার কাউন্সিল বলেছে, ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে এই প্রতিবেদক বিবিসিসহ অন্যান্য মিডিয়াকে যেসব সাক্ষাৎকার দিয়েছে তা জাতিসংঘের নীতিমালা ও বৈশিষ্ট্যের লঙ্ঘন।
কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: মানবাধিকার উচ্চ কমিশন যদি জাভিদকে নীতি বহির্ভুত আচরণ থেকে ফেরাতে না পারে, তাহলে ইরান জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সঙ্গে বিশেষ করে এই প্রতিবেদকের ব্যাপারে যে বৃহৎ সহযোগিতা করছে তা পুনর্বিবেচনা করবে।
বর্তমানে বিশ্বসমাজের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার একটি সংবেদনশীল ইস্যু। বিশ্বের সকল মানুষের স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর এই মানবাধিকার বিষয়ক প্রস্তাব গৃহীত হয়। দু:খজনকভাবে এই মানবাধিকার ইস্যুটি এখন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সামাজিক ন্যায় ও শান্তি বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক রবার্ট ফ্যান্টিনা এ সম্পর্কে বলেছেন: মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই এর সংজ্ঞা নিরূপণ জরুরি। বিশ্ব মানবাধিকার প্রস্তাব পাস করেছিল আমেরিকাসহ ৪৮ টি দেশ। ওই প্রস্তাবে মানবাধিকার সংক্রান্ত যেসব নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল বিশ্বের সকল দেশ তা মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপ সেসব নীতিমালা মেনে চলছে না।
তারা প্রতিদিনই মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। ইসরাইল এবং সৌদিআরবের মতো শিশু হত্যাকারীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈষম্যের কারণে মানবাধিকার বিষয়ক সর্বজনীন নিয়মিত পর্যালোচনা বা ইউপিআরের ওপর বিশ্বব্যাপী মানুষের আস্থা কমে গেছে।
জাতিসংঘের মতো একটি গর্বিত সংস্থা এখন বস্তুত মানবাধিকারের দাবিদার কোনো কোনো পশ্চিমা দেশের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। স্বাধীন দেশগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক প্রতিবেদন তৈরি করা রাজনৈতিক প্রতারণা ও বৈষম্যের প্রমাণ। এ কারণেই মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড এখন সন্দেহ ও আস্থাহীনতার উর্ধ্বে নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সঙ্গে গত ২৩ মে'তে দেশের প্রধান তিন বিভাগের প্রধানসহ পদস্থ কর্মকর্তারা সাক্ষাত করেন। সেখানে তিনি বলেন, ক্লিন্টনের সময় আমেরিকায় ড্যাভিডিয়ানদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আফগানিস্তানের মার্কিন কারাগার, ইরাকের আবু গারিব কারাগার এবং গুয়ান্টানামো বে'র কারাগারে বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমেরিকার অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলোর স্বার্থে তাদেরকে অস্ত্র বিক্রির স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর মার্কিন পুলিশের অমানবিক অত্যাচার, দায়েশ গঠনে মার্কিন ভূমিকা, সাম্প্রতিক গাজা জেনোসাইডসহ মানুষ হত্যায় ইসরাইলকে সহায়তা দেওয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনে গণহত্যা পরিচালনায় সৌদিআরবকে সমর্থন দেওয়া ইত্যাদি সকল অপকর্ম আমেরিকাই করেছে। জাতিসংঘ যদি সকল জাতির সংগঠন হয়ে থাকে এবং মার্কিন স্বার্থরক্ষাকারী না হয়ে থাকে, তাহলে এই সংস্থার উচিত উল্লেখিত অপরাধকে আমলে নিয়ে তাদের পুরোনো ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্ত করা।#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৩
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন