খুব সহজেই আমেরিকার পতন ঘটতে পারে: আলী শামখানি
-
আলী শামখানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আমেরিকা পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ইতিহাস সংক্রান্ত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিকে উৎখাত করার জন্য আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য ও এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও তরুণ প্রতিরোধ যোদ্ধারা, সিরিয়ার সেনাবাহিনী, ইরাকের হাশত আশ্ শাআবি, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ ও মাজারগুলো রক্ষায় আত্মনিয়োগকারীরা প্রমাণ করেছেন, পাশ্চাত্য বিশ্বের প্রধান শক্তি নয়। আমেরিকার শক্তিকে কাগুজে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, খুব সহজেই এই শক্তির পতন ঘটতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিগুলোর অবদান ও আত্মত্যাগের কথা সবারই জানা আছে। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন এ সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের ব্যর্থতাকে আড়াল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত দশ বছর আগেও এ অঞ্চলে যুদ্ধ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রধান হোতা দখলদার ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল। ৩৩দিন, ২২ দিন ও আট দিনের এসব যুদ্ধে ইসরাইল সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়েও লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়। এসব পরাজয় থেকে প্রমাণিত হয় ইসরাইল ও তার সমর্থক আমেরিকাকে পরাস্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবানন ও ফিলিস্তিনিদের বিজয় সম্পর্কে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, "দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকা ও এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ বিপুল অর্থ ব্যয় করেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ইসরাইল সীমান্ত এলাকা ও অভ্যন্তরেও নিরাপত্তাবোধ করছে না।"
বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদি আরব ও আরো কয়েকটি দেশ দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে ইরাক ও সিরিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এমনকি ওই দেশ দুটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল"। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়। আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের এ ব্যর্থতার কারণ প্রতিরোধ শক্তিগুলোর দৃঢ় অবস্থান। প্রতিরোধ শক্তিগুলোর এ বিজয়ে প্রমাণিত হয়েছে ইসরাইল অপরাজেয় নয়। আর এটাও প্রমাণিত হয়েছে এ অঞ্চলে আমেরিকার পতন অনিবার্য। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, আমেরিকা যে ক্রমেই পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এরইমধ্যে তার বহু আলামত পাওয়া গেছে এবং গত ৪০ বছরের তুলনায় আমেরিকা এখন অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪