সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরাকের প্রতিরোধ শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে আমেরিকা
ইরাকের প্রতিরোধ সংগঠন হারাকাত হিজবুল্লাহ আন নুজাবার মুখপাত্র বলেছেন, এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এক ধরনের মনস্তাত্বিক যুদ্ধ এবং এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের বাস্তবতাকে আড়াল করা বা বিরাজমান পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনা যাবেনা।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরাকের নুজাবা প্রতিরোধ সংগঠন ও এর মহাসচিব আকরাম আল কাবিরকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দশ হাজারের বেশি প্রতিরোধ যোদ্ধা নিয়ে নুজাবা ইরাকের সরকার সমর্থিত জনপ্রিয় প্রতিরোধ সংগঠন হাশদ্ আশ শাবির ব্যানারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে। ২০১৪ সালে ইরাকের প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সিস্তানির নির্দেশে হাশদ্ আশ শাবি গঠন করা হয়েছিল। এই সংগঠন ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের পতনের পর থেকে আমেরিকা প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে ধ্বংস বা দুর্বল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমেরিকা, সৌদি আরব ও সাদ্দামের নিষিদ্ধ ঘোষিত বাথ পার্টি জনপ্রিয় হাশদ্ আশ শাবিকে নির্মূল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইরাকের সরকার ও জনগণের প্রতিক্রিয়া ও সচেতনতার কারণে তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দায়েশ সন্ত্রাসীদের পতন এবং গত বছর সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে তাদের নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী ও গণবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার পর ইরাকের রাজনীতিবিদরা সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, আমেরিকার অনুগতদেরকে ইরাকের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। বিশেষ করে হাশদ্ আশ শাবিকে দুর্বল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সম্প্রতি আমেরিকা সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে আমেরিকা এখন ইরাকে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এটাকে এ অঞ্চলে আমেরিকার নতুন করে বিপজ্জনক খেলা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, আমেরিকা শর্তসাপেক্ষে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে ইরাকসহ এ অঞ্চলে আরো বেশি হস্তক্ষেপ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আমেরিকা ইরাকের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করায় ইরাকের জনগণ বিশেষ করে প্রতিরোধ সংগঠনগুলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এ কারণে আমেরিকা জনপ্রিয় সংগঠন হাশদ্ আশ শাবির তৎপরতা বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে পথে কাঁটা সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এসব চেষ্টায় কোনো লাভ হয়নি। কারণ এ সংগঠন জনগণের সহায়তায় গড়ে উঠেছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭