সবারই উচিত পরমাণু সমঝোতার প্রতি অটল থাকা: জাতিসংঘ
-
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রধান
২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি সই হওয়ার পর পরের বছর ১৬ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই আমেরিকা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা সৃষ্টি করে যাতে ইরান কোনো অর্থনৈতিক সুবিধান না পায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ষড়যন্ত্র তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত গত বছরের ৮মে তিনি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক সকল নিয়মনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার রিচার্ড সোকোলস্কি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব মোকাবেলার বিষয়ে আমেরিকার নীতি বা লক্ষ্য উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট নয়।
আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও চুক্তিতে সইকারী অন্য দেশগুলো অর্থাৎ চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এটিকে রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছে। পরমাণু সমঝোতার প্রতি জাতিসঙ্ঘেরও অনুমতি রয়েছে এবং এ সংস্থা এটিকে রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রধান মারিয়া ফার্নান্ড স্পিনোসা পরমাণু সমঝোতাকে সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ফসল হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, সবারই উচিত এ চুক্তির প্রতি অটল থাকা। তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তুর প্রতি সম্মান জানানো ও এর প্রতি সমর্থন থাকা উচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপও এটিকে রক্ষা করতে চায়।
পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে জাতিসংঘ কর্মকর্তার এসব বক্তব্য থেকে এ চুক্তির প্রতি এ সংস্থার সমর্থনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকেও বোঝা যায় আন্তর্জাতিক সমাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অযৌক্তিক নীতিকে সমর্থন করেনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে এক বৈঠকে তেহরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতির প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যাতে তার ভাষায় ইরান কখনো পরমাণু বোমার অধিকারী হতে না পারে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধিতা করে এবং তারা সবাই বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক পরমাণু সমঝোতা রক্ষার পক্ষে মত দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলছে। এ ছাড়া চুক্তির সঙ্গে যুক্ত ইউরোপের তিনটি প্রভাবশালী দেশও মনে করে এটি ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৯
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন