ইরান বিরোধী চাপ বহাল রাখুন: জাপানকে ইসরাইলের আহ্বান
ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক অঙ্গণে তীব্র রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় ইরান বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী ও ঝানু রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের ইরান সফরের প্রাক্কালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী গতকাল (শুক্রবার) এক টেলিফোন সংলাপে ইরান বিরোধী চাপ বহাল রাখার জন্য শিনজো অ্যাবের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া, নেতানিয়াহু গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের আণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান উলাই হাইনুনেনের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে দাবি করেছেন, পরমাণু সমঝোতা সত্বেও তেহরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
নেতানিয়াহু এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুললেন যখন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ১৫টি প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে এবং দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, তীব্র ইরানভীতি ছড়ানো যা কিনা ইসরাইল, মার্কিন ও সৌদি আরবের অভিন্ন কৌশল। আর দ্বিতীয়ত, নিজের পরমাণু তৎপরতার বিষয়টিকে আড়াল করা।
কয়ক বছর আগে মার্কিন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাক গোয়ার্ক ব্যান্ডি এ কথা ফাঁস করে দেন যে, "১৯৬০ সালে ফ্রান্সের সহযোগিতায় ইসরাইল পরমাণু রিঅ্যাক্টর তৈরির কাজ শুরু করে। সে সময় ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন দূতাবাসকে জানিয়েছিলেন এটি একটি সিরামিক তৈরির কারখানা।"
পরবর্তীতে কথিত সিরামিক কারখানা দিমোনা পরমাণু বোমা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়। আমেরিকার সমর্থনেই ইসরাইল সেখানে পরমাণু বোমার তৈরির কাজ শুরু করে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে বর্তমানে ইসরাইলের হাতে ২০০ থেকে ৪০০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু বোমা মুক্ত করার যে দাবি উঠেছে ইসরাইল ও আমেরিকা তাতে বাধা দিচ্ছে।
ইসরাইলি দৈনিক মাআরিভ কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে নেতানিয়াহুর নানা অভিযোগকে কটাক্ষ করে বলেছে, "ইসরাইল সিরিয়ায় পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।" ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এমন সময় পরমাণু বোমা বানানোর প্রচেষ্টার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করলেন যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এক ফতোয়ায় পরমাণু বোমা তৈরিকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন।
অবশ্য শত্রুরা শুধু ইরানের পরমাণু ইস্যুতেই চাপ সৃষ্টি করছে না। সম্প্রতি আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তারা ইরান বিরোধী প্রচারণায় নেমেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ইরান বিরোধী প্রচারণায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "ফুজাইরা ঘটনায় বি-টিমের মিথ্যাচার ও প্রচার প্রপাগান্ডার পর এবার মোসাদ ময়দানে নেমেছে।"
তবে ইরান বিরোধী প্রচার চালিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেকে কতটা প্রভাবশালী বলে প্রমাণ করতে পারবেন সেটা সময়ই বলে দেবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫