ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে পরমাণু সমঝোতার প্রতি মোগেরিনির সমর্থন ঘোষণা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পরমাণু সমঝোতায় সইকারী তিনটি প্রভাবশালী দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এ চুক্তি টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এ লক্ষ্যে আমেরিকা সফরে গেছেন এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা জারেড কুশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। এ সাক্ষাতে এক বিবৃতিতে মোগেরিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য পরমাণু সমঝোতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে চায় বলে মোগেরিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং এর পরই ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত পরমাণু সমঝোতায় সইকারী অন্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রচণ্ড নিন্দা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয় এবং তারা এ চুক্তি টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। পরমাণু সমঝোতায় সইকারী ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন বিষয়ক বিশেষ ব্যবস্থা 'ইন্সটেক্স' চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান তার সব প্রতিশ্রুতি পালন করলেও ইউরোপ এখনো ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায়ও তারা কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এ কারণে ইরান চলতি বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তেহরান ইউরোপকে দুই মাসের সময় বেধে দিয়ে বলেছে এর মধ্যে তারা যদি 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থা চালু না করে অর্থাৎ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় পদক্ষেপ না নেয় তাহলে চুক্তির ওই দুই ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হবে।
ইরানের আল্টিমেটাম ঘোষণার পর ৪৪ দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো অর্থ লেনদেন বিষয়ক 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থা চালু করার কোনো আলামত ইউরোপের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। যদিও তারা স্বীকার করেছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে চায়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপের এ ধরণের পরস্পর বিরোধী অবস্থান গঠনমূলক নয় এবং তা পরমাণু সমঝোতার নীতিমালার লঙ্ঘন। মোগেরিনি যদিও দাবি করেছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং ইরানের জনগণের অধিকারকেও তারা রক্ষা করতে চায় কিন্তু তাদের মুখের কথা সঙ্গে কাজের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ঘোষিত দুই মাসের আল্টিমেটাম চূড়ান্ত এবং এটি আর নবায়ন করা হবে না। অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে দু'জন কূটনীতিক বলেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আগ্রহী নয়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০