পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপের পরস্পর বিরোধী অবস্থান: রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় সইকারী জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়ে আসছে। এমনকি তারা এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের মুখের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জিব্রাল্টার প্রণালিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানের একটি তেল ট্যাংকার আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ পদক্ষেপ পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ইউরোপের পরস্পর বিরোধী আচরণের দৃষ্টান্ত। রাশিয়ার বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, লন্ডন, ওয়াশিংটনসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনার পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলছে। ইরান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে ইচ্ছাকৃতভাবে তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও বিবৃতিতে রাশিয়া হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।
ব্রিটেনের নৌ বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গত বৃহস্পতিবার জিব্রাল্টার প্রণালিতে ইরানের তেল ট্যাংকার গ্রেস-১কে আটক করে। লন্ডন যদিও দাবি করেছে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার কারণেই ওই জাহাজটিকে আটক করা হয়েছে কিন্তু ওই প্রণালি নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে বিবাদে জড়িত স্পেন সরকার বলছে মূল ঘটনা হচ্ছে আমেরিকার অনুরোধে সাড়া দিয়েই ব্রিটিশ সরকার ইরানের তেল ট্যাংকার আটক করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জোসেফ বোরেল এ ব্যাপারে বলেছেন, "আমেরিকার নির্দেশনা পেয়েই ব্রিটেনের নৌ বাহিনী ইরানের তেল ট্যাংকার আটক করে।" এদিকে আমেরিকা দাবি করেছে, তেল ট্যাংকারটি সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইরানি তেল ট্যাংকার আটকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় আমেরিকার কৌশলগত মিত্র হিসেবে লন্ডন ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার জন্য জাহাজ আটকের মতো বেআইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ সিরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং দেশটির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় ব্রিটেনের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ ও পাশ্চাত্য বিষয়ক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক পানি সীমায় জাহাজ আটকের ঘটনাকে ব্রিটেনের জলদস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইউরোপ কিংবা একটি দেশের পক্ষ থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে এক তরফা এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার ব্রিটেনের নেই।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে পরমাণু সমঝোতায় সইকারী ব্রিটেন সবসময়ই এ চুক্তি টিকিয়ে রাখার এবং ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা ইন্সটেক্স এর প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করাই ছিল এ ব্যবস্থা চালুর প্রধান উদ্দেশ্য। একদিকে লন্ডন তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করার কথা বলছে অন্যদিকে অন্যদিকে তেল ট্যাংকার আটক করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে যা কিনা দ্বিমুখী আচরণ।
কিন্তু ব্রিটেনের এ পদক্ষেপ পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং এতে করে ওই দেশটি ও ইউরোপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাশিয়ার বিবৃতিতেও এ ব্যাপারে ইউরোপকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬