নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিশ্বের স্বাধীনচেতা জাতিগুলোর জন্য বিশ্বস্ত মডেল: ইসমাইল বাকায়ি
জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় দফতরে ইরানের প্রতিনিধি ইসমাইল বাকায়ি হামানেহ গতকাল বলেছেন: যারা নিজেদেরকে নিষেধাজ্ঞার ওস্তাদ বলে পরিচয় দেয় তাদেরকে অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এবং রোগী ও নিরীহ শিশুদের খুনি হিসাবে চিহ্নিত করা উচিত।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক চাপ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিনীদের দুটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ার দুটি ব্যবহার করে তারা ইরানের সরকার ও জাতীয় নীতি পরিবর্তন করতে চায়। ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মার্কিন সরকারগুলোর স্থায়ী নীতিতে পরিণত হয়েছে। ইসমাইল বাকায়ি আরও বলেন, বিপ্লব বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি জনগণ তাদের স্বাধীন সত্তা এবং পরিচয় অর্জন করেছে। ইসলামী বিপ্লবের সেই স্বাধীন সত্ত্বার আদর্শ ও নীতিমালা ইরান অনুসরণ করে আসছে। ইরানের এই মৌলিক ও স্বাধীন নীতি তাদের অসহ্য বলেই তারা তা পরিবর্তন করতে চায়।
ট্রাম্প সরকারের আমলে মার্কিনীদের এই নীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা বিচিত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে বলে ইরানি এই কূটনীতিক মন্তব্য করেন ।
ইরানের বহু ব্যক্তিসহ সামাজিক ও বাণিজ্যিক অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তায় এক প্রতিবেদনে বলেছেন,২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের অন্তত ৭০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ট্রাম্প ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা ইরানি জাতির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চূড়ান্ত বৈরিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ যা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক মন্ত্রী সাঈদ নামাকি সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু'র মহাসচিব টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিসসকে একটি চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে বলেছেন ইরানি জাতির স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বিরুদ্ধে মার্কিন ওই অন্যায় ও অপরাধের মোকাবেলায় হু'র চুপ করে থাকা উচিত নয়।
যাই হোক এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন যে ইরানি জাতির ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তা প্রমাণ করে মানবাধিকারের বুলিটা তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছু নয়।
বিগত চল্লিশ বছর ধরে ইরানও প্রমাণ করেছে কোনে অবস্থাতেই তারা ইসলামী বিপ্লবের নীতি ত্যাগ করবে না। নিষেধাজ্ঞার মাঝেই ইরান বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশ ও জাতিগুলোর জন্য একটি বিশ্বস্ত মডেলে পরিণত হয়েছে। সুতরাং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের ঐকমত্য এবং আইনী ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞমহল।
পার্সটুডে/এনএম/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।