নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণ; নাশকতা পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করেছে সিআইএ
-
নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণ; নাশকতা পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করেছে সিআই
পার্সটুডে-নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণ আবারও আলোচনায় এসেছে; স্পিগেল ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে যে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ওই অভিযানের আগে পাইপলাইনের বিরুদ্ধে নাশকতা পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল।
জার্মান ম্যাগাজিন স্পিগেল কিয়েভের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ২০২২ সালের বসন্তে ইউক্রেনীয় এজেন্টদের সাথে বাল্টিক সাগরে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিল এবং ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে অবগত ছিল। নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে এবং জার্মানিতে রাশিয়ার গ্যাস পরিবহনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর মধ্যে একটিকে অক্ষম করে দেয়।
পার্সটুডে আরও জানায়, বার্লিন বিশ্বাস করে যে বেশ কয়েকজন ইউক্রেনীয় ডুবুরি একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেছিল এবং সম্ভবত পোল্যান্ডের সহায়তায় বাল্টিক সাগরের গভীরে গিয়ে বিস্ফোরক স্থাপন করে পাইপলাইনগুলো ধ্বংস করেছিল। ইউক্রেনীয় সূত্র ডের স্পিগেলকে জানিয়েছে, প্রাথমিক বৈঠকে আমেরিকানরা "পরিকল্পনাটি আপাতদৃষ্টিতে পছন্দ করেছে" এবং এমনকি "কাতার" রহস্য নামক একটি অভিযানের প্রযুক্তিগত বিবরণও উভয় পক্ষের মধ্যে বিনিময় করা হয়েছিল।
তবে, প্রকাশনাটির মতে, ২০২২ সালের গ্রীষ্মের গোড়ার দিকে, ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করে ঘোষণা করে যে, তারা এই অভিযানকে আর্থিকভাবে সমর্থন করবে না। ডের স্পিগেল আরও দাবি করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাশকতা রোধ করার চেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু ইউক্রেনীয় এজেন্টরা তাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেছে।
এই বর্ণনার জবাবে, মস্কো ইতোপূর্বে আনুষ্ঠানিক পশ্চিমা বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের বিবৃতি "আর কোনও নর্ড স্ট্রিম থাকবে না, আমরা এটি শেষ করব"- এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে রাশিয়া আরও যুক্তি দিয়েছিল যে মার্কিন সরকারের সরাসরি সমর্থন ছাড়া এ ধরনের অভিযান সম্ভব হত না।
নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের এক বছর পর, আমেরিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক সিমুর হার্শ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিলেন, এই লাইনগুলো ধ্বংস করার আদেশ হোয়াইট হাউস জারি করেছিল। এটা এমন এক দাবিকে মার্কিন সরকার "সম্পূর্ণ কাল্পনিক" বলে বর্ণনা করেছে। নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণে সিআইএ-র ভূমিকার বিষয়টি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে ইউরোপে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা উন্মোচিত হতে পারে।#
পার্সটুডে/এনএম/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।