আরামকো নিয়ে সৌদি-মার্কিন বাগাড়ম্বর
আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি-মার্কিন অভিযোগ; 'বাস্তবতা মেনে কথা বলুন': জারিফ
-
জাওয়াদ জারিফ
আমেরিকা ও সৌদি আরব আবারো আরামকো তেল স্থাপনায় ইয়েমেনিদের ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের আবারো দাবি করেছেন, "তার দেশের বৃহৎ আরামকো কোম্পানির তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত।" মানামায় এক বৈঠকে যে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল তা ইরানের তৈরি দাবি করে তিনি বলেছেন, "সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিরোধী নয় কিন্তু আমরা ইরানকে এমন জবাব দিতে চাই যাতে ওই ধরণের ড্রোন হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।" ইরানকে খুশী রাখার চেষ্টা করে লাভ নেই কারণ হিটলারের সঙ্গে আলোচনা করেও লাভ হত না বলে তিনি মন্তব্য করেন।" তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো হবে না বরং বাড়ানো হবে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের আমেরিকার সমর্থন নিয়ে নিজেদের অপরাধযজ্ঞ ঢাকার জন্য এ পর্যন্ত অনেক কথাই বলেছেন। এবার তিনি ইরানকে জার্মানির হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে প্রকৃতপক্ষে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি অপরাধযজ্ঞ ঢাকার চেষ্টা করছেন।
প্রকৃতপক্ষে, সৌদি আরব ও তার মিত্রদের হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরো হাজার হাজার এবং শরণার্থী হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি যোদ্ধারাও ১০টি ড্রোনের সাহায্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আরামকো কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন দু'টি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের ভেবেছিলেন, আমেরিকার কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র কিনে মাত্র কয়েক দিনে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে পারবে। কিন্তু গত প্রায় পাঁচ বছরের যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে সৌদি আরবের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সম্মুখ যুদ্ধেও সৌদি আরব চরমভাবে পরাজিত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত বহু সৌদি ও ভাড়াটে সেনা নিহত হয়েছে। বহু জায়গাও তাদের হাতছাড়া হয়েছে। ইয়েমেন পরিস্থিতির ব্যাপারে মার্কিন সাময়িকী হেইল জানিয়েছে, "সৌদি আরব ইয়েমেনে অচলাচস্থার সম্মুখীন হয়েছে এবং বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে।"
তবে এ ব্যর্থতা আমেরিকা ও সৌদি আরবের পক্ষে মেনে নেয়াটা সহজ নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আরামকো তেল স্থাপনায় হামলায় তেহরানের হাত থাকার ব্যাপারে আমেরিকা ও সৌদি আরবের অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেন, আমরা আমেরিকাকে এটা জানিয়ে দিতে চাই যে, এসব উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলার পরিবর্তে তারা যেন বাস্তবতা মেনে কথা বলে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব আসলে ইয়েমেনের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। এ অবস্থা থেকে তাদের বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ করা।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪