"পরমাণু সমঝোতাকে 'ট্রাম্পীয় সমঝোতার' সঙ্গে বিনিময় করবে না ইরান"
-
লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়িদিনেজাদ
‘ট্রাম্পীয় সমঝোতার’ সঙ্গে পরমাণু সমঝোতাকে বিনিময়ের যে প্রস্তাব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়িদিনেজাদ ব্রিটেনের চার নম্বর টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জনসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতার অস্তিত্ব এখনো টিকে রয়েছে এবং এর সমঝোতার তিন ইউরোপীয় সদস্যদেশ এখনো কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কাজেই এখনো নতুন কোনো চুক্তিকে এই সমঝোতার স্থলাভিষিক্ত করার সময় আসেনি।
বায়িদিনেজাদ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে পরমাণু সমঝোতায় নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতায় নিজের দেয়া প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে এ সমঝোতাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য নয় বরং তেহরান এ ব্যাপারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর পথ খোলা রেখেছে।
তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি পরমাণু সমঝোতায় নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ঘোষণা করেছে, তারা এ সমঝোতার ব্যাপারে মতপার্থক্য নিরসনের ম্যাকানিজম কাজে লাগাবে। ওই ম্যাকানিজম কার্যকর করলে পরমাণু সমঝোতা থেকে ইরান লাভবান হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সমঝোতা কাজে লাগানো যেতে পারে। এই ট্রাম্পীয় সমঝোতায় কি রয়েছে তা এখনো ট্রাম্প ও জনসন ছাড়া আর কেউ জানেন না। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কথিত আলোচনার প্রস্তাব এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরান প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।#
পার্সটুডে/এমএমআই/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।