ইরানের পরমাণু সমঝোতা: আমেরিকার মোকাবিলায় ইউরোপের নতজানু নীতি
-
জার্মান চ্যান্সেলন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল (বামে), ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন (মাঝখানে) এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন (ডানে)
তিন ইউরোপীয় দেশের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতার মতবিরোধ নিরসনের ম্যাকানিজম চালু করার ব্যাপারে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তাতে আমেরিকার মোকাবিলায় এসব দেশের নতজানু নীতি ফুটে উঠেছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট খবর দিয়েছে, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি ‘মশে’ নামের ওই ম্যাকানিজম চালু করার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই তিন দেশকে এটি চালু করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এখান থেকে বোঝা যায়, ইউরোপীয় দেশগুলো আমেরিকার ইরান-বিদ্বেষী ধ্বংসাত্মক নীতি অনুসরণ করছে।
তিন ইউরোপীয় দেশ মঙ্গলবার এমন সময় মতবিরোধ নিরসনের ম্যাকানিজম চালু করল যখন পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও ইরানকে ওই সমঝোতা থেকে আর্থিক সুবিধা দিতে না পেরে তারা কার্যত এই আন্তর্জাতিক চুক্তিকে অকার্যকর করে দিয়েছিল।
এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু সমঝোতার বিকল্প হিসেবে ইরানের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করার যে বাসনা পোষণ করে আসছিলেন প্রকারান্তরে তার প্রতিই সমর্থন জানাল ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি।
আমেরিকার প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ভয় ও শঙ্কার বিষয়টি ওয়াশিংটন পোস্টের বুধবারের সংখ্যায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মার্কিন দৈনিকটি লিখেছে, ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয়রা যদি আমেরিকাকে অনুসরণ করে ইরানের বিরুদ্ধে মশে ম্যাকানিজম চালু না করে তাহলে ওয়াশিংটন ইউরোপীয়দের গাড়ি আমদানির ওপর শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করবে। এ অবস্থায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি আমেরিকার এ হুমকির বিষয়টিকে চেপে গিয়ে ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে’ এই অভিযোগ তুলে মশে ম্যাকানিজম চালু করেছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলল যখন এসব দেশ পরমাণু সমঝোতায় নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়ে আমেরিকার ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে।
এ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বুধবার রাতে এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন: তিন ইউরোপীয় দেশ মনে করছে তারা এখনো ঊনবিংশ শতাব্দিতে বসবাস করছে যখন তারা অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিতে দিত, মিথ্যা বলত এবং এজন্য কোনো শাস্তিও পেতে হতো না।
ইরান থেকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর চলে যাওয়া, ইরানের তেল আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, ইরানি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেন করতে অস্বীকার করা এমনকি খাদ্য ও ওষুধের মতো নিষেধাজ্ঞা বহির্ভূত পণ্য ইরানের কাছে বিক্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করা- এ সবই পরমাণু সমঝোতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থতার প্রমাণ।
সর্বশেষ এসব ইউরোপীয় দেশ মশে ম্যাকানিজম চালু করে প্রমাণ করেছে তারা আমেরিকার পুরোপুরি ভৃত্যে পরিণত হযেছে এবং এর ফলে স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতার বিষয়টি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএমআই/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।