তালেবান ও আমেরিকার চুক্তি সই: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i77921-তালেবান_ও_আমেরিকার_চুক্তি_সই_ইরানের_পররাষ্ট্র_মন্ত্রণালয়ের_প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তানের তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি সইয়ের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, আফগান সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরণের চুক্তি সইয়ের কোনো অধিকার আমেরিকার নেই এবং তেহরান সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো আফগান উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মার্চ ০২, ২০২০ ১৪:১৪ Asia/Dhaka
  • তালেবান ও আমেরিকার চুক্তি সই: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

আফগানিস্তানের তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি সইয়ের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, আফগান সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরণের চুক্তি সইয়ের কোনো অধিকার আমেরিকার নেই এবং তেহরান সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো আফগান উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।

গতকাল তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তি সইয়ের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আফগানিস্তানে তখনি কেবল টেকসই শান্তি চুক্তি সম্ভব হবে যখন তালেবানসহ সেদেশের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আফগানদের মধ্যে আলোচনা হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্ব পাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের এ প্রতিক্রিয়া থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, এতে আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যতটা পদক্ষেপ নেয়া হবে ঠিক ততটাই সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, আমেরিকার অসৎ উদ্দেশ্য তথা লোক দেখানো শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেয়া।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি থেকে আরো যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে, আমেরিকা এ চুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তানে তাদের সেনা উপস্থিতির বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া, আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সরকারের বাইরে কারো সঙ্গে চুক্তির কোনো অধিকারই আমেরিকার নেই। আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত উপায় হিসেবে ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানদের মধ্যে আলোচনার পরিবেশকে সহজ করা এবং যে কোনো সমঝোতার ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে ইরান আফগান সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আশা করছে দেশটির সরকার প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলীতে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করে চলেছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমেরিকা এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করার পাশাপাশি আইএস ও আল কায়দার মতো সন্ত্রাসীদেরকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে নিজেদের পক্ষে পরিবর্তন আনার এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা বিস্তারের চেষ্টা করছে। উদাহরণ স্বরূপ ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা যায় যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিস্তার করা ছাড়া আর কোনো ফলাফল বয়ে আনেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনার উপস্থিতিকে সেদেশে যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা ও অশান্তির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারে ইরানও চুপ করে বসে থাকতে পারে না। কারণ ওই দেশটির নিরাপত্তা মানে ইরানেরও নিরাপত্তা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ কিছু আগে ইস্তাম্বুলে বলেছেন, তালেবানসহ আফগানিস্তানের সব দলের সমন্বয়ে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে ইরান।

যাইহোক অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কখনই করেনি আমেরিকা। বরং তারা যেখানেই গেছে সেখানেই      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২