ট্রাম্পের মিথ্যাচারের নয়া রেকর্ড!
মিথ্যাচারে বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ন ট্রাম্প বললেন: ইরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন জানায়নি!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার, নিষ্ঠুরতা ও প্রতারণার জন্য সম্ভবত অতীতের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও ছাড়িয়ে গেছেন!
আর তারই প্রমাণ হল সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, ইরান করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য কোনো আবেদন জানায়নি বলে দেশটিতে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর অনুমতি দেয়া যাচ্ছে না! ইরানের অর্থনীতি ও সশস্ত্র বাহিনী করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে তিনি ওই বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) হোয়াইট হাউসে সংবাদ ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো নৈতিক দায়িত্ব অনুভব করেন কিনা। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি কোনো নৈতিক দায়িত্ব অনুভব করি না; তারা আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেও নি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বললেও প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে- করোনাভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর ইরান বহুবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান বৈশ্বিক সংকট করোনা ভাইরাস মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের অমানবিক ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর জাওয়াদ জারিফের এ সংক্রান্ত চিঠি সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক ওই চিঠির কপি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে বড় বাধা। কারণ এ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিদেশ থেকে ওষুধসহ কোনো ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামও আমদানি করতে পারছে না।
আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়তো চান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন জানাতে ইরান সরকার যেন সরাসরি মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে! তিনি নিজেই বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে চাইলে ইরানকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে ও সাহায্যের আবেদন জানাতে হবে!
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কয়েক দিন আগে বলেছেন, করোনার বিষয়ে মার্কিন সাহায্য পেতে হলে ইরানে আটক বিদেশী সব বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।
ইরানের সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও মানবিক ও ইসলামী নীতিতে বিশ্বাসী ইরান করোনা-কবলিত মার্কিন জনগণের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর এক বিশাল চালান তেহরানস্থ সুইস দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করেছে।
বর্বরতা ও নৃশংসতায় মার্কিন সরকারগুলো বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্ব-জনমত ও আন্তর্জাতিক সমাজের চাপের মুখে জুনিয়র বুশের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার ২০০৩ সালে ভূমিকম্প-কবলিত ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল ও ইরানে কিছু মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে।
বৈশ্বিক সংকট করোনার মধ্যেও ইরানের বিষয়ে মার্কিন সরকারের অব্যাহত চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা এতই অমানবিক ও বর্বরোচিত যে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের অনেকেই ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা না তোলা হলে ইরানে সাহায্য সামগ্রী পাঠানো সম্ভব নয় বলে বাইডেন উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়াও করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ইলহান ওমরসহ মার্কিন কংগ্রেসের ৩২ জন সদস্য।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দাবি সত্ত্বে হোয়াইট হাউজ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের ওপর বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে! আর তাই এটা স্পষ্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার হয়ত কখনও পাশবিকতা ছেড়ে মানবিক হতে পারবে না! #
পার্সটুডে/এমএইচ/৩