করোনাভাইরাস: যে ভয়াবহ হুমকিকে সুযোগে পরিণত করল ইরান
-
ইরানের একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র
‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানের সাফল্য খুবই সন্তোষজনক’। কথাটি বলেছিলেন ইরান সফরকারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দলের প্রধান রিচার্ড বেরনান। প্রায় এক মাস আগে তিনি তেহরান সফরে এসে বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানের গৃহীত পদক্ষেপ সন্তোষজনক এবং আমরা গর্বিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ কর্মকর্তা ইরানের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পূর্বভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময় সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ করে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানের সাফল্য অন্য দেশগুলোর জন্যও আদর্শ।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অবসানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এর আগে বিশ্বে এবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এর ভ্যাকসিন বের হতে সময় লেগেছিল ছয় মাস। কোনো কোনো চিকিৎসাবীদ বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন বের হতে সময় লাগবে ৯ থেকে ১২ মাস। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রয়োজন রোগ নির্ণয় এবং কোয়ারান্টাইনে থাকা যাতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যায়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করা এ থেকে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবেলায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এরই মধ্যে ইরান করোনাভাইরাস সংক্রমণ নির্ণয়ে সক্ষম চৌকস প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং সিটি স্ক্যানের সাহায্যে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এ প্রক্রিয়ায় নির্ণয় করা যাবে করোনার সংক্রমণ। ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌরেনা সাত্তারীর উপস্থিতিতে এ প্রযুক্তির উন্মোচন করা হয়। ইরানের এ উদ্ভাবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমণ সঠিকভাবে নির্ণয়ের নতুন পথ খুলে গেছে। নতুন এ পদ্ধতিতে করোনা সংক্রমণ বের করতে সিটি স্ক্যানের সহায়তা নিতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যাইহোক, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী এখন ইরানের বিশেষজ্ঞরাই তৈরি করছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বের কয়েকটি দেশের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইসিইউতে রোগীর অক্সিজেন সরবরাহের জন্য দুষ্প্রাপ্য ভেন্টিলেটরের কথা উল্লেখ করা যায়। ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌরেনা সাত্তারী বলেছেন, বর্তমানে ইরানের বিশেষজ্ঞরা করোনা নির্ণয়ের কিট তৈরি করছেন এবং সপ্তাহে এক লাখ কিট তৈরিতে তারা সক্ষম। তাই বিদেশেও ইরান কিট রপ্তানি করতে পারবে।
এ ছাড়া, স্বল্প সময়ে পর্যাপ্ত মাস্ক তৈরিতেও ইরানের কোম্পানিগুলো সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চারগুণ বেশি মাস্ক তৈরি করেছে ইরান এবং তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর চাহিদাও পূরণ করতে পারবে। বর্তমানে ইরান করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে।
যাইহোক, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এসব সাফল্য, গবেষণা ও প্রচেষ্টা ইরানের জন্য হুমকি নয় বরং সুযোগে পরিণত হয়েছে। ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে এ ধরণের বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হয়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫