ইসলামি সরকার ব্যবস্থা উৎখাতে ইরানের জনগণকেই আহ্বান জানালেন পম্পেও
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i78913-ইসলামি_সরকার_ব্যবস্থা_উৎখাতে_ইরানের_জনগণকেই_আহ্বান_জানালেন_পম্পেও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এমনকি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সত্বেও তারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
এপ্রিল ০৮, ২০২০ ১২:১৯ Asia/Dhaka
  • মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও
    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এমনকি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সত্বেও তারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পুরানো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে তার আচরণে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে ইরানের জনগণকেও তাদের সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রোধে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের চাপ উপেক্ষা করে ওয়াশিংটন উল্টো ইরানের সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার দাবি জানাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েই ক্ষান্ত হননি একইসঙ্গে তিনি জনগণের মাধ্যমে দেশটির শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনারও আহ্বান জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প সরকারের এ আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য তার এসব বক্তব্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর এবং এর আগে নির্বাচনী প্রচারকালে ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থা উৎখাতের কথা বলতেন। এ লক্ষ্যে তিনি বহুবার ইরানের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে ইরানের জনগণকে সহযোগিতা করার দাবি করছেন অন্যদিকে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছেন যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের জনগণ। ট্রাম্প কিছু দিন পরপর ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়িয়েই চলেছেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করতেন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও মানবিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি মানবিক বিষয় বিবেচনা করছেন না। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সত্বেও এবং আন্তর্জাতিক সমাজের অনুরোধের পরও তিনি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অথচ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরান হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্তর্জাতিক সমাজের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। খোদ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন তার অবস্থানে অটল রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে হোয়াইট হাউজ ঘোষণা করেছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮