ইরাকের গ্রিন জোনে রকেট হামলায় পম্পেও’র বক্তব্য: তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i85503-ইরাকের_গ্রিন_জোনে_রকেট_হামলায়_পম্পেও’র_বক্তব্য_তেহরানের_কড়া_প্রতিক্রিয়া
গত রবিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে কয়েকটি কাতিউশা রকেট আঘাত হেনেছে। মার্কিন দূতাবাসসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস এবং সরকারি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস ওই এলাকায় রয়েছে। রকেট হামলায় বেশকিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ মারা যায়নি।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০২০ ১৫:৫২ Asia/Dhaka

গত রবিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে কয়েকটি কাতিউশা রকেট আঘাত হেনেছে। মার্কিন দূতাবাসসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস এবং সরকারি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস ওই এলাকায় রয়েছে। রকেট হামলায় বেশকিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ মারা যায়নি।

বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এলাকায় সন্দেহজনক রকেট হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টুইটবার্তায় দাবি করেছেন, ইরান সমর্থক সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী রকেট হামলা চালিয়েছে এবং এতে ইরাকের কিছু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। তিনি বলেন, এই হামলার বিচার করার অধিকার ইরাকের জনগণের রয়েছে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারি এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করা উচিত।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাম্পের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ খাতিবযাদে যেকোনো কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি এ অঞ্চলের সমস্ত অস্থিতিশীলতার উৎস।' তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পম্পেও যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তেহরান কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছে।মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতার জন্য আমেরিকা নিজের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর যত চেষ্টাই করুক না কেন তাতে কোন ফল হবে না।'

পর্যবেক্ষকরা বলছেন এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে মার্কিন নীতি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসেও এসব ব্যর্থতা ঢাকার জন্য একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও লেবাননের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের নীতি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এটা তাদের জন্য খুবই লজ্জাকর ব্যাপার। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ইরাকসহ সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায়। ইরান নয় বরং আমেরিকাই নানাভাবে হামলা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।

বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলার ঘটনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ শাআবির কর্মকর্তারা এই হামলাকে সন্দেহজনক অভিহিত করে বলেছেন, মার্কিনীরা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং এটাকে তারা সে দেশে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার অজুহাত হিসেবে ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চায়।

ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্য আল-সাদেকুন বলেছেন, ‘বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এখন আর আমাদের বন্ধু নয় বরং ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের জন্য পার্লামেন্টের নির্দেশের বিরোধিতা করার পর ওয়াশিংটন এখন দখলদার শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।‘ ইরাকের এ পার্লামেন্ট সদস্য আরো বলেছেন, ‘বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বিপুল পরিমাণে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করে রাখা হয়েছে। বলা যায় দূতাবাসকে তারা সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। এখান থেকে তারা টার্গেট করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে ও দেশে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজেদের দূতাবাস এলাকায় রকেট হামলা চালিয়ে ইরাকে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে এই ঘটনার জন্য জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাআবিকে অভিযুক্ত করে জনগণের কাছে তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।

এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্কিন দূতাবাস এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে সন্দেহজনক অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বাগদাদে রকেট হামলার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন তা ব্যাপক সংশয় সৃষ্টি করেছে। মনে হচ্ছে আগে থেকে বিবৃতিটি তৈরি ছিল এবং হামলার পর পরই তা প্রকাশ করা হয়েছে’। খাতিবযাদে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করার ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২