আমেরিকার যে-কোনো সামরিক হঠকারিতার ব্যাপারে ইরানের কঠোর হুশিয়ারি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i85589-আমেরিকার_যে_কোনো_সামরিক_হঠকারিতার_ব্যাপারে_ইরানের_কঠোর_হুশিয়ারি
বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে সাম্প্রতিক রকেট হামলায় তেহরানের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত টুইটে যে হুমকপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২৫, ২০২০ ১৪:২৯ Asia/Dhaka

বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে সাম্প্রতিক রকেট হামলায় তেহরানের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত টুইটে যে হুমকপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ ট্রাম্পের ওই হুমকি জবাবে পাল্টা টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন: নিজ দেশের জনগণকে দেশের বাইরে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরে নিজের চরম ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।

ট্রাম্পের ওই গাঁজাখোরি টুইটের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন ও মনগড়া বাগাড়ম্বরপূর্ণ অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এরকম ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হোয়াইট হাউসের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ট্রাম্প যে দুর্বিসহ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এই অভিযোগের ঘটনা সেই পরিস্থিতি থেকে জনদৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টামাত্র। গত বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও প্রমাণ ছাড়াই রোববার বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলায় ইরান জড়িত বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

 ট্রাম্প তার টুইটার পেইজে লিখেছেন: "রবিবার বাগদাদে আমাদের দূতাবাসে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালানো হয়। এগুলোর মধ্যে তিনটি রকেট কাজ করে নি। "অনুমান করুন তো এসব রকেট কোত্থকে এসেছে? নিজেই জবাব দিয়ে লেখেছেন: ইরান। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন: আমরা ইরাকে আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আরও হামলার গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছি। আমেরিকার একজন নাগরিকও যদি মারা যায় তার জন্য দায়ী থাকবে ইরান। যদিও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সন্ত্রাসবাদী বাহিনী সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি দাবি বলেছেন যে, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনোরকম  সংঘাতে জড়াতে চায় না।

প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্প এখন জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় বড় রকমের ধাক্কা খেয়ে পরাজিত হয়েছেন। তাঁকে এখন তাঁর সরকার ও দলের কর্মকর্তারাই প্রতিদিন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিদেশেও বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতারাও তার ব্যাপারে উদাসীন। এসব কারণেই মূলত জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ট্রাম্প এখন ইরানকে সামরিক হুমকির ঢোল পিটিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্প মনে করেন যে ইরানকে হুমকি দিয়ে তিনি তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন উইলবার্গার এবং ডাস্টিন ওয়াকারের মতে ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার কোনো কার্যকর উপায় নয়। বরং এতে সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমেরিকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ট্রাম্প আসলে এগুলো করে ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে ইরানের স্পষ্ট বক্তব্য হলো মার্কিন প্রশাসন যদি কোনোরকম বিবেকহীন সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করে তাহলে ইরান তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

পার্সটুডে/এনএম/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।