পরমাণু সমঝোতায় ফেরার নামে মার্কিন সরকারের নতুন ফন্দি-ফিকির!
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i90568-পরমাণু_সমঝোতায়_ফেরার_নামে_মার্কিন_সরকারের_নতুন_ফন্দি_ফিকির!
জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতায় ফেরার কথিত আলোচনার নামে আসলে সময় ক্ষেপণ করছে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বলে আবারও ইরানকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
এপ্রিল ২৩, ২০২১ ১৪:১৫ Asia/Dhaka
  • পরমাণু সমঝোতায় ফেরার নামে মার্কিন সরকারের নতুন ফন্দি-ফিকির!

জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতায় ফেরার কথিত আলোচনার নামে আসলে সময় ক্ষেপণ করছে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বলে আবারও ইরানকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে।

ভিয়েনা আলোচনায় মার্কিন হালচাল এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে এ তিক্ত বাস্তবতাই ফুটে উঠেছে বলে বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন। 

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোরে একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কূটনীতিক জানিয়ে দিয়েছেন, পরমাণু সমঝোতায় ফিরে এসে মার্কিন সরকার আবারও যে তা থেকে বেরিয়ে যাবে না এমন কোনো লিখিত গ্যারান্টি দেয়া হবে না! তিনি অবশ্য আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সরকার যদি আবারও ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তা হবে সদিচ্ছার একটি নিদর্শন এবং বিনা কারণে তা থেকে বেরিয়ে যাবে না, কিন্তু কোনো গ্যারান্টি থাকবে না এ বিষয়ে। 

এদিকে ইরান কোনো অস্থায়ী চুক্তি মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে আসছে। ইরান আরও বলছে যে মার্কিন সরকারকে নিঃশর্তভাবে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে ও তা করতে হবে বাস্তব কাজের মাধ্যমে।

মার্কিন সরকার ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে।  ট্রাম্প ইরানের ওপর পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল করা ছাড়াও নতুন নতুন বিপুল সংখ্যক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অবশ্য বারাক ওবামার সরকারও কখনও পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি, বরং নানা অজুহাতে ইরানের ওপর নতুন নতুন বহু নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রেখেছিল।

জো বাইডেন  ক্ষমতায় আসার আগে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ফেরার কথা বললেও ক্ষমতায় এসে নানা ধরনের শর্ত আরোপ করতে থাকে। এখন ইরানের পরমাণু সমঝোতার কেবল মৌখিক সমর্থক ও বাস্তবে মার্কিন নীতির অনুসারী ইউরোপীয় জোট এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে মার্কিন সরকার। ভিয়েনায় এ নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় বাইডেন সরকার বার বার এ বার্তাই দিয়েছে যে মার্কিন সরকার ইরানের ওপর ট্রাম্প সরকারের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আগ্রহী নয়। কেবল পরমাণু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলোই তুলে নিতে আগ্রহী যদি ইরানও পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ফিরে আসে।

ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাতিল ঘোষণা করেন এইসব অজুহাত দেখিয়ে যে ওই সমঝোতাকে মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন করেনি এবং ওই সমঝোতায় মার্কিন স্বার্থও রক্ষিত হয়নি ও এমনকি তা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাকেও সীমিত করেনি! 

এখন বাইডেন সরকারের কর্মকর্তারাও ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ফিরে এসে তাতে অবিচল থাকার বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে অস্বীকার করায় ও সব নিষেধাজ্ঞা তুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এটা স্পষ্ট যে এই সরকারও আসলে ট্রাম্পের নীতিই অনুসরণ করছে ভিন্ন আঙ্গিকে ও ভিন্ন লেবেলে প্রতারণার নতুন ফাঁদ পাতার লক্ষ্যেই। ইরানের পরমাণু ইস্যুতে ভিয়েনা বৈঠকে কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ার ও অচলাবস্থা দেখা দেয়ার কারণও হল মূলত এটাই।  

ভিয়েনা আলোচনার উত্তাপ শীতল না হতেই মার্কিন কংগ্রেস ইরানের ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের কাজ শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৩  

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।