সিরিয়া বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরলেন জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি
গত অনেক বছর ধরে সিরিয়া সরকার মার্কিন মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। চাপিয়ে দেয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত সিরিয়ার হাজার হাজার নিরীহ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ দেশের ভেতরে ও বাইরে শরণার্থী জীবন যাপন করছে। পরিকল্পিত এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে দখলদার ইসরাইলও একের পর এক হামলা চালিয়ে সিরিয়া সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে।
কিন্তু সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গড়িমসি ও অবহেলার কারণে একদিকে এ সংকট যেমন তীব্রতর হচ্ছে অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি সিরিয়া বিষয়ক বৈঠকে বলেছেন, ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে তেল আবিবকে বাধ্য করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। ইরানের প্রতিনিধি এ বৈঠকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই এবং সিরিয়ার ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, সিরিয়ায় দখলদার শক্তির উপস্থিতি ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কারণে একদিকে সিরিয়ার নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অন্যদিকে সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা আজ বিরাট হুমকির সম্মুখীন। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান বিকি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন একতরফা পদক্ষেপের কারণে সিরিয়ায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে সিরিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাকামী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে এবং জাতিসংঘের অনুমতি না নিয়ে বেআইনিভাবে কথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী জোট গঠন করে সিরিয়াকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সিরিয়াকে দুর্বল করার মাধ্যমে মূলত তারা পশ্চিম এশিয়ায় ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে দুর্বল করার মিশন নিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে দখলদার ইসরাইলও সিরিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে এবং তারা সিরিয়া সংকটকে তীব্রতর করে তুলেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিরিয়া সংকটকে দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিকে ইসরাইলের অনুকূলে আনা। এ কারণে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি সিরিয়ার বিরুদ্ধ ইসরাইলের অব্যাহত আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান সবসময়ই সিরিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে ওই দেশটির পুনর্গঠন ও শরণার্থী প্রত্যাবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত সিরিয়ার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৯