আসাদের পতন ঘটানো ছিল আমেরিকার পরিচালনায় তুরস্কের নাটক: দায়েশ
আইএস (সাবেক আইসিস/দায়েশ): জোলানি সরকার পশ্চিমাদের পুতুল
-
ট্রাম্পের সঙ্গে জোলানি
পার্স-টুডে: সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস ( সাবেক আইসিস) এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, “আবু মোহাম্মদ জুলানি”-র নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের নতুন দফার অভিযান শুরু হয়েছে।
সিরিয়া থেকে ইরানের আল-আলম-টেলিভিশনের সাংবাদিক জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি তাদের বিবৃতিতে জোলানিকে “নিষ্প্রাণ পুতুল” হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে যে তিনি পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণে আছেন এবং হুমকি দিয়েছে যে তার পরিণতিও বাশার আল-আসাদের মতোই হবে।
লেবাননের অনলাইন পত্রিকা “আল-আখবার”-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত 'ইসলামিক স্টেট' বা (আরবিতে) 'দায়েশ' তাদের বিবৃতিতে সাবেক সিরীয় শাসনব্যবস্থার পতন অভিযানের ঘটনাকে “আমেরিকার পরিচালনায় তুরস্কের একটি নাটক” বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে সিরিয়া এখন “ক্রুসেডারদের আধিপত্যে” রয়েছে, আর জোলানি সেখানে কেবল নাড়াচাড়া করা একটি পুতুল।
অন্য একটি প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়েছে, দায়েশ জোলানি সরকারকে ধর্ম-নিরপেক্ষ বলে উল্লেখ করেছে এবং এই সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে ফরজ বলে ঘোষণা করেছে।
“আল-আখবার” 'দাবিক' নামের আইএস-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী “আল-মিয়াদিন” ও “ আর রাক্কা” শহরে জুলানি সরকারের বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে। সংঘর্ষে দায়েশের এক হামলাকারী, যার সঙ্গে বিস্ফোরক বেল্ট ছিল, সেও নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২০ হাজার আইএস বা দায়েশ সদস্যের পরিবারের লোক আল-হোল শিবির থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এসব তৎপরতা তীব্রতর হয়েছে।
জোলানির অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর শিবিরটি খালি করা হয় এবং অবশিষ্ট বন্দিদের আলেপ্পোর কাছে “আখতারিন” গ্রামের নিকটবর্তী আরেকটি শিবিরে স্থানান্তর করা হয়।
এছাড়া “কাসাদ” বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারগুলো থেকে আইএস-এর কয়েক ডজন সদস্য পালিয়ে গেছে এবং দায়েশের পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে স্থানান্তর করেছে, যাদের অর্ধেকেরও বেশি সিরীয়।
মাঠপর্যায়ের সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, জোলানির নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার এখনো দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। আল-হোল শিবির থেকে আইএস তথা দায়েশ সদস্যদের পরিবারের পালিয়ে যাওয়া এবং অস্থায়ী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা-শূন্যতা অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক মহাসচিবের উপ-সহকারী আলেক্সান্ডার জুইয়েভ সতর্ক করে বলেছেন, “আইএস-এর হুমকি আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও গোষ্ঠীটি বিদেশি যোদ্ধা নিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।” তিনি সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত ভঙ্গুর” বলে বর্ণনা করেন এবং যোগ করেন যে আইএস বা দায়েশ সিরিয় শাসনব্যবস্থার শূন্যতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কাজে লাগাচ্ছে।
সিরিয়ার পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এবং হায়াত তাহরির আল-শামের শক্তিশালী হয়ে ওঠার পর “আনসার আল-সুন্নাহ ব্রিগেড”সহ নতুন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উদ্ভব হয়েছে, যেগুলোকে জাতিসংঘ “আইএস-এর নতুন ফ্রন্ট” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ও দামেস্কের “মার এলিয়াস” গির্জায় হামলা চালিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের সূত্র আরও দাবি করেছে যে, জোলানি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচবার হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এসব সূত্রের মতে, “উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো” বিদ্যমান নিরাপত্তা শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে জোলানি সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এসব চেষ্টা চালিয়েছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে বলেছেন, তিনিই মূলত জোলানিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং কুর্দিদের প্রতি তার আচরণেরও তিনি প্রশংসা করেছেন। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।