ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রীর মস্কো সফর: নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি কানি গতকাল মস্কোয় তার রুশ সমকক্ষ সের্গেই রিয়াবকভের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।
মস্কো সফরের আগে তিনি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপপ্রধান এবং পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের সমন্বয়কারক এনরিক মুরার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। মস্কো সফরে গিয়ে তিনি রিয়াবকভের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে টুইটার বার্তায় বলেছেন, ইরান বিরোধী মার্কিন বেআইনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে রুশ সমকক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। দুই দেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ বিষয়ে অবস্থান আরো শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন স্তরে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। আগামী মাসে ভিয়েনায় এ সংক্রান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিটি দেশের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভিয়েনা বৈঠকে এবার ইরানের একমাত্র টার্গেট হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিশ্চয়তা লাভ করা এবং সে অনুযায়ী অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তাই এবারের আলোচনা কেবল তখনই সফল হবে যদি প্রতিপক্ষ ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে সম্মত হয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা বিষয় ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের ফলে তেহরান-মস্কো সহযোগিতা আরো জোরদারের সুযোগ এসেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। রাশিয়ার প্রাচ্য বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য ভ্লাদিমির সাজিন বলেছেন, রাশিয়া কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই ইরানকে শরীক দেশের এক নম্বর তালিকায় রেখেছে এবং দুই দেশ যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্রাসেলস সফরের পর ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কারণ হচ্ছে, এ অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বাধীন ও প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ ভূমিকা পালন। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত সহযোগিতা। ইরান বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ইউরেশিয়ার অর্থনৈতিক জোটের সদস্য এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিস্তারে তেহরান ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রয়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।