রেডিও তেহরান বাংলা'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শোনার দুর্লভ স্মৃতি!
প্রিয় জনাব/জনাবা, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আশা করি আপনারা সবাই পবিত্র রমজান মাসে সুস্থ শরীরে ভালো ও কুশলেই আছেন। আমিও আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে এবং আপনাদের দোয়ার বরকতে সহি সালামতেই আছি।
আজ থেকে ৩৯ বছর আগের কথা! তখন আমি একজন কলেজের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্হিবিশ্বের রেডিও শোনা, পত্র-পত্রিকা পড়া, পত্রমিতালী, ডাকটিকিট সংগ্রহ এবং গল্পের বই পড়া-এগুলোই ছিল আমার সখ!
১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো একদিন ক্লাস না থাকায় কলেজ ক্যাম্পাসে রৌদ্রে বসে বন্ধুবান্ধব মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ ডাকপিয়ন এসে আমার হাতে বেশ কয়েকটি রঙিন খামে ভরা বিদেশি চিঠি ও পত্রিকা দিয়ে দ্রুত চলে গেলেন। আমি ১৯৭৬ সাল থেকেই রেডিও'র অনুষ্ঠান শুনতাম এবং চিঠি লিখতাম! আর সেই জন্যই বিভিন্ন বেতার কেন্দ্র থেকে, পেনফ্রেন্ডদের কাছ থেকে এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রচুর চিঠিপত্র ও পত্রিকা পেতাম। তো ডাকপিয়ন আমাকে চিঠিপত্র ও পত্রিকা দিয়ে চলে যাওয়ার পর; আমি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগ, ঢাকা ধানমন্ডি থেকে প্রকাশিত 'নিউজ লেটার' নামক পত্রিকাটি পড়তে পড়তে মাঝের পাতায় 'রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুনুন' শিরোনামে একটি ঘোষণা দেখতে পেয়েছিলাম। এতে লেখা হয়েছিল- "ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বেতার টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তেহরান বেতারের বর্হিবিশ্ব কার্যক্রম বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য ৪৫ মিনিটব্যাপী বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে যাচ্ছেন। আগামী ১৭ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সময় প্রতি দিন সন্ধ্যা ০৬:৩০ মিনিট থেকে ০৭:১৫ মিনিট পর্যন্ত শর্টওয়েভ ১৯ মিটার ব্যান্ড ১৫০৮৪ কিলোহার্টসে।"
উপরোক্ত ঘোষণাটি পড়ে আমি দারুণ এক্সাইটেড হয়ে ছিলাম! রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শোনার জন্য আমি দিন, তারিখ ও সময় গুণতে গুণতে অবশেষে ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ০৬:৩০ মিনিটের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ পেয়ে গেলাম। শর্টওয়েভ ১৯ মিটারে কাঙ্ক্ষিত বেতারের নতুন অনুষ্ঠান শোনার জন্য রেডিও'র নব ঘুরাতে ঘুরাতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে গেলাম! কিন্তু কিছুতেই রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান ধরতে পারছিলাম না! বেতার যন্ত্রটি যে নিম্নমানের, তা নয়। একদম জাপানি ন্যাশনাল প্যানাসনিক থ্রি ব্যান্ড রেডিও। আর তখন তো ডিজিটাল রেডিও'র কথা ভাবতেই পারতাম না, ডিজিটাল রেডিও মানে স্বপ্ন দেখা! তবে সেই ডিজিটাল রেডিও'র স্বপ্ন অনেক আগেই ডয়েচে ভেলে জার্মান বেতার তরঙ্গ পূরণ করেছে এবং নিজ টাকায়ও ৪/৫ টি উন্নতমানের বেতার যন্ত্র ক্রয় করেছি। ওই দিন হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম যে, রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান মনে হয় আজ শুনতে পারব না। কিছুক্ষণ পর আবার রেডিও'র নব ঘুরাতেই পেয়ে গেলাম আমার কাঙ্ক্ষিত 'রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান'!!!
১৭ এপ্রিল ১৯৮২ সাল, শনিবারের প্রথম অনুষ্ঠান আমি মাত্র ১৫ মিনিট মত শুনতে পেয়েছিলাম। তাও আবার উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠান!!! কী যে আনন্দ লেগেছিল- সেটা ভাষায় প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ইথারে ভেসে আসা কোনো বেতারের দূরসংকেত রেডিওতে ধারণ করে শোনার মজাই আলাদা!!!
সেই ৩৯ বৎসর আগের প্রচারিত অনুষ্ঠানটির নাম আজও আমার হৃদয়ের খাতায় লিখা আছে। অনুষ্ঠানটির নাম ছিল- "কোরআনি শিক্ষার নূরানী ঝলক ও ইসলামী অর্থব্যবস্থা"। তারপর থেকে আজ অবধি সুদীর্ঘ ৩৯টি বছর যাবৎ নিরবে নিভৃতে প্রাণ প্রিয় বেতার রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শুনে আসছি! রেডিও তেহরানের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী চিঠিতে আবারো প্রিয় বেতার "রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের উপর স্মৃতি চারণ করবো। কত স্মৃতি! কত ব্যথা!! কত কথা!!! সে কি ভোলা যায়??? কখনোই নয়!!!
পরিশেষে রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কর্মী ভাই-বোনদের এবং প্রাণপ্রিয় শ্রোতা বন্ধুদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই ইতি টানছি। আল্লাহ হাফেজ
শুভেচ্ছান্তে-
আপনাদেরই একজন নগন্য বন্ধু,
মোখলেছুর রহমান,
প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক,
বাংলাদেশ ডি-এক্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল,
খাদিমপুর বাজার, পোঃ বহলবাড়ীয়া-৭০৩০, জেলা: কুষ্টিয়া।
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।