'গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান নতুন ইতিহাস রচনার সুযোগ করে দিয়েছে'
রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের লেখাগুলো পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশ শুরু হয়েছে। বিজয়ী ১২ জনের পাশাপাশি মানসম্মত সবার লেখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের শ্রোতা শরিফা আক্তার পান্নার লেখা।
রেডিও তেহরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি গণমাধ্যম। ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামী বিশ্বে এ বেতার কেন্দ্রটি খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে, ১৯৮২ সালে বাংলা ভাষায় সম্প্রচার শুরুর পর বাংলাদেশ ও ভারতে নিরপেক্ষ, তরতাজা ও সর্বশেষ খবরের উৎস হল রেডিও তেহরান। এতদ্বঞ্চলের অনেক সংবাদ মাধ্যম এখন রেডিও তেহরান বা পার্সটুডের খবর সূত্রসহ তাদের প্রচার মাধ্যমে প্রচার করে থাকে।
গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের ভূমিকা আলোচনা করার আগে সাধারণত একটি গণমাধ্যমের ভূমিকা বা দায়িত্ব কী সেটা জানার চেষ্টা করি। মূলতঃ মুলধারার একটি গণমাধ্যম- (ক) বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রচার করে, (খ) খবরের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে, (গ) জনমত গঠন করে, (ঘ) নিজ দেশকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরে, (ঙ) সামাজিক দায়িত্ব পালন করে, (চ) মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এবং (ছ) বিনোদন দিয়ে থাকে। মোটাদাগে যেকোনো গণমাধ্যমের কাছে এগুলোই মানুষের প্রত্যাশা।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, রেডিও তেহরান কি মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে? আমার অসংকোচ উত্তর হল: হ্যাঁ। কেন আমার উত্তর হ্যাঁ, অর্থাৎ রেডিও তেহরান কিভাবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করছে মানে গণমাধ্যম হিসেবে কী ভূমিকা রাখছে, সেটাই এখন তুলে ধরব।
খবর প্রচারের ক্ষেত্রে রেডিও তেহরান সমসাময়িক বেতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সেরা। কেননা, রেডিও তেহরান বিশ্বসংবাদের মাধ্যমে তরতাজা, নিরপেক্ষ ও তথ্যবহুল খবর প্রচার করে যাচ্ছে। অধিকন্তু যেসব খবর পাশ্চাত্যের মিডিয়াতে প্রকাশ পায় না, সেসব খবর প্রকাশ করে রেডিও তেহরান ইতোমধ্যেই মজলুমের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। ইসলামী বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের মধ্যে ইরানের এ বেতার কেন্দ্রটি ইউরোপ-আমেরিকার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মুসলমানদেরকে সঠিক খবর দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্রের মত নিয়মিতভাবে খবরের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে শ্রোতাদের চাহিদা পূরণ করছে।
ইতিবাচক জনমত গঠনেও রেডিও তেহরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রেডিও তেহরান নানা বৈচিত্রময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে প্রতিনিয়ত ইসলামের পতাকাতলে, শান্তির ছায়াতলে আহ্বান করছে। মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ, সততা, ইসলামিক আদর্শ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইরানকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করে দিতে প্রচার করছে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান। কখনো কোন স্থানের বর্ণনার মাধ্যমে, কখনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে, কখনো গল্প ও প্রবাদের মাধ্যমে, কখনো শিল্প-পণ্যের মাধ্যমে ইরানকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে বিশ্ববাসীর কাছে। ফলে ইরানে না গিয়েও আমরা এখন চোখের সামনে ইরানকে দেখতে পাই। গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে আমি মনে করি।
একদিকে শ্রোতাদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করে তোলা, অন্যদিকে প্রিয়জনের মাধ্যমে শ্রোতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে রেডিও তেহরান তার সামাজিক দায়িত্বও পালন করছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের ওয়েবসাইটে শ্রোতাদের মতামত প্রকাশ করে তাদেরকে এ সম্প্রচারের অংশীদার করে নেয়া হয়েছে। গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের এমন দৃষ্টিভঙ্গী নতুন ইতিহাস রচনার সুযোগ করে দিয়েছে।
রেডিও তেহরান সবসময় মজলুমের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, নির্যাতিতের পক্ষে। এ ভূমিকার কারণেই এটি আজ জনগণের গণমাধ্যমে পরিণত হতে পেরেছে। আবার বিনোদন বিতরণেও রেডিও তেহরান পিছিয়ে নেই। নৈতিক শিক্ষা-সম্বলিত গল্প, মজাদার কাহিনী, নির্মল গান প্রচার করে রেডিও তেহরান তার শ্রোতাদের বিনোদনও দিয়ে থাকে।
রেডিও, মোবাইল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ, ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার- নানা মাধ্যমে রেডিও তেহরান বা পার্সটুডে শ্রোতা-পাঠকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। গণমাধ্যম হিসেবে সহজে ও নানাভাবে জনগণের দোর-গোড়ায় পৌঁছার এবং তথ্য পৌঁছানোর এ প্রয়াসই রেডিও তেহরানকে অনন্যতা দান করেছে।
তাহলে আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে আমরা বলতে পারি যে, গণমাধ্যম হিসেবে একটি বেতার কেন্দ্রের যে ভূমিকা থাকে বা যেভাবে আমরা একটি গণমাধ্যমকে দেখতে চাই, রেডিও তেহরান ঠিক তাই।
লেখক: শরিফা আক্তার পান্না, অর্থ-সম্পাদক, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব-কিশোরগঞ্জ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।