'রেডিও তেহরান দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i94260-'রেডিও_তেহরান_দুই_বাংলার_মানুষের_হৃদয়ে_বিশেষ_স্থান_করে_নিয়েছে'
রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানস্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভঅবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা বিধান চন্দ্র সান্যালের লেখা।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুলাই ০৭, ২০২১ ১১:০০ Asia/Dhaka
  • 'রেডিও তেহরান দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে'

রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানস্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভঅবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা বিধান চন্দ্র সান্যালের লেখা।

সময় ও জল স্রোত যেমন কারো জন্য অপেক্ষা করে না, তেমনি মহাকালের রথের চাকা কখনো থামে না। সে চলে, এগিয়েই চলে। যুগ বদলায়। বদলায় তার জীবনধারা। এককালের শিক্ষার প্রসার প্রয়াস ছিল, তার পরিবর্তন হলো। দিকে দিকে শুরু হয়েছে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। মানুষ মেতে উঠেছে অনাবিষ্কৃত জগতের রহস্য সন্ধানে। একে একে মানুষ আয়ত্ত করেছে আনন্দের নানা উপকরণ। নতুন গণমাধ্যম এসে দখল করল পুরোনো গণমাধ্যমের জায়গা। বিজ্ঞান মানুষের হাতে তুলে দিল সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র। এগুলোই হল আধুনিক যুগের আধুনিক গণমাধ্যম। গণশিক্ষার উপযোগিতা আজ দেশে দেশে স্বীকৃত এবং ব্যাপৃত। গণশিক্ষার জন্য চাই গণমাধ্যম; অর্থাৎ এমন ধরনের কিছু উপাদান যা শিক্ষা বিস্তারে বাতাসের মতো নিরপেক্ষ, পানির মত সর্বত্রগামী এবং আলোর মত দ্রুত বিস্তারী। সর্বোপরি জনগণকে প্রভাবান্বিত করার সবচেয়ে বড় শক্তি হল গণমাধ্যম। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার মানুষ জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

একইসঙ্গে ব্যাপকসংখ্যক জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমকে গণমাধ্যম বলা হয়। গণমাধ্যমকে জনসংযোগের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধ্বনি মাধ্যমের মধ্যে রেডিও মুদ্রণ মাধ্যমের তুলনায় অনেক নতুন। পুরো বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি রেডিও আছে। বিশ্বের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন রেডিও ব্যবহার করে। সিয়ান ম্যাকব্রাইড তার কমিশন রিপোর্টে বলেছেন, "In all regions of the  world, radio is the most uniquitous of the mass media." 

বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত গণমাধ্যম এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল রেডিও তেহরান। রেডিও সম্প্রচার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট আর ফেসবুকের দৌলতে রেডিও তেহরান খুব সহজেই দূরের মানুষের কাছেও বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরান দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

রেডিও তেহরানের আবির্ভাব বহু মানুষকে এক সূত্রে বেঁধে দিতে সক্ষম হয়েছে। রেডিও তেহরানের মাধ্যমে একইসঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ একই অনুষ্ঠানে শুনতে পায়। শুধু তাই নয়, রেডিও তেহরানের সম্প্রচার শ্রুতি নির্ভর হওয়ায় নিরক্ষর মানুষ ও অন্যের সহায়তা ছাড়াই সরাসরি বেতারের যেকোনো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালায় মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা যেমন থাকে, তেমনি থাকি নানা ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও। মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে রেডিও তেহরানের একটি বিশেষ ভূমিকা আছে।

বস্তুনিষ্ঠ নিরপেক্ষ তরতাজা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে রেডিও তেহরান সকল শ্রোতার মাঝে একটি বিশ্বস্ত গণমাধ্যম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। বিশ্ব সংবাদ, সংবাদভাষ্যর অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত, কথাবার্তা এবং দর্পণ অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে সংবাদপিপাসু সকল শ্রোতার সংবাদ পিপাসা মেটাতে পরিপূর্ণ সফল হয়েছে।

'আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল' শীর্ষক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সন্তান মানুষ করার প্রকৃত ইসলামীয় রীতি নীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবার সুযোগ দিয়েছে রেডিও তেহরান।

শিশুরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। সেই শিশুকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিনোদন ও নৈতিকতা শিক্ষার বিশেষ আয়োজন রংধনু। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ও রংধনু বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।

একটি ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বেতার হিসেবে রেডিও তেহরান ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকে, যা প্রকৃত ইসলাম ধর্মের অন্যতম মানবীয় গুণ। আসমাউল হুসনা, কুরআনের আলো, হাদীসের উদ্ধৃতি প্রভৃতির মাধ্যমে রেডিও তেহরান ইসলামের আদর্শ প্রচার করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

রেডিও তেহরানের শ্রোতা বান্ধব দৃষ্টিকোণ এবং আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশের কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে রেডিও তেহরান দুই বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ধ্বনিত হোক যার মাধ্যমে প্রকৃত ইসলামের মানবিক মুখ সমুজ্জ্বল হোক রেডিও তেহরানের কাছে আমরা আজ সেই প্রত্যাশাই করব।

 

বিধান চন্দ্র সান্যাল
বালুরঘাট, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।