‘প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন একমাত্র রেডিও তেহরানেই সম্ভব’
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i94398-প্রকৃত_সত্য_উদ্ঘাটন_একমাত্র_রেডিও_তেহরানেই_সম্ভব’
প্রিয় মহোদয়, রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কলাকুশলী ও শ্রোতৃবৃন্দকে আমার অন্তরের ভালোবাসা ও প্রীতিময় শুভেচ্ছা জানাই। ২৪ ঘণ্টা খবরের মধ্যে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মন ভরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুলাই ১০, ২০২১ ১৪:০৪ Asia/Dhaka
  • ‘প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন একমাত্র রেডিও তেহরানেই সম্ভব’

প্রিয় মহোদয়, রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কলাকুশলী ও শ্রোতৃবৃন্দকে আমার অন্তরের ভালোবাসা ও প্রীতিময় শুভেচ্ছা জানাই। ২৪ ঘণ্টা খবরের মধ্যে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মন ভরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গত ৯ই জুলাই 'পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা' অনুষ্ঠানে পাশ্চাত্য দেশগুলোর দারিদ্র্যতা সম্পর্কে জানতে পারলাম। সুদূর পাশ্চাত্যের জীবনব্যবস্থা কেমন সেই সম্পর্কে সঠিক তথ্য একমাত্র রেডিও তেহরান থেকেই পাওয়া সম্ভব। অন্যান্য মিডিয়াগুলো যেখানে পাশ্চাত্য সম্পর্কে বাড়িয়ে মিথ্যা প্রচার করে সেখানে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন একমাত্র রেডিও তেহরানেই সম্ভব।

জানতে পারলাম- জাতিসংঘ ২০১৮ সালে প্রকাশ করে আমেরিকায় চার কোটি মানুষ দরিদ্র এবং এক কোটি আশি লাখ মানুষ চরমভাবে দরিদ্র। যদিও আমেরিকা তা অস্বীকার করে বলে সেদেশে চরম দরিদ্র মাত্র আড়াই লাখ। জাতিসংঘের এই সমীক্ষা করার উদ্যোগকে তারা হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিতে চায়। অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষাকৃত কম ধনীদের দরিদ্র বলে ভাবা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সাত শিশুর মধ্যে একজন দারিদ্র্যের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে। সেদেশে এক কোটি পঞ্চান্ন লাখ শিশু দারিদ্র্যের স্বীকার। চল্লিশ শতাংশ শিশুকে আঠারো বছর বয়সের আগে একবছর তাদের দারিদ্র্যে কাটাতে হয়।

অন্যদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোতে বিশ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যতার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি ব্রিটেনে উচ্ছিষ্ট খাবারের মার্কেট তৈরি হয়েছে। ডাস্টবিন থেকে সংগৃহীত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে বহু মানুষ। এরপর এ প্রকল্প চালু করা হয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে, যেখানে চরম আর্থিক সংকট চলেছে। গোটা ইউরোপ জুড়ে দারিদ্র্যতা চরম আকার ধারণ করেছে। সুইজারল্যান্ডে যেসব মায়েরা  দারিদ্র্যের কারণে সন্তানকে সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে পারেন না তারা শিশুদের রাখেন বেবি উইনডো বা বেবি বাকেটে। যতই দিন যাচ্ছে ততই এ ধরনের শিশুকেন্দ্র বেড়ে চলেছে।

এই আলোচনায় পাশ্চাত্যের আসল বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। বিরাট বিরাট অট্টালিকার জৌলুসের পাশাপাশি এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষুধার্ত মানুষ। তাদের কণ্ঠস্বর কারও কাছে পৌঁছায় না। কোনো মিডিয়া পাশ্চাত্যের দারিদ্র্যতাকে তুলে ধরে না। ঐ দরিদ্র মানুষগুলো ওসব দেশে অসহায়ের মতো বেঁচে থাকে। গাজী আব্দুর রশিদ ও নাসির মাহমুদের বলিষ্ঠ কণ্ঠে যেন সেই প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।

এমন তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ অনুষ্ঠান প্রচার করার জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এমন ভালো ভালো অনুষ্ঠান শোনার আশা রেখে শেষ করছি।

একইদিন গত 'আলাপন' অনুষ্ঠানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সাক্ষাৎকার নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন প্রাক্তনী গাজী আব্দুর রশিদ। কথায় কথায় জানতে পারলাম বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অনেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বহু ছাত্র ও শিক্ষক মারা গেছেন। পরবর্তীতেও যেকোনো গণআন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ সারিতে ছিল। দেশ ও জাতির নির্মাণে এরকম ভূমিকা খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে। ১৯২১ সালে ইংরেজরা যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা করে তা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাঠামোগত সাদৃশ্য রেখে তৈরি হয়। এখানে ছাত্ররা হোস্টেলে থেকে পড়তে পারত। যদিও নব্বই দশকের সময় থেকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্র অনেক কমে এসেছে। সংকীর্ণ রাজনীতি প্রবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাসক দলের ছাত্র সংগঠনরাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাক্ স্বাধীনতার জায়গা কমে এসেছে। স্তাবকতা বেড়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিম্নমুখী হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে এল।

সবশেষে রোবায়েত ফেরদৌস বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হবে জ্ঞান সৃজন, জ্ঞান বিতরণ এবং জ্ঞান সংরক্ষণ। এই তিনটি কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের এক উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শতবর্ষ পূর্তিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম। এমন সুন্দর তথ্যনির্ভর ও প্রাসঙ্গিক সাক্ষাৎকার প্রচারের জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।

 

ভাস্কর পাল

মহেন্দ্রনগর অগ্রগামী ক্লাব

পোস্ট: নাটাগড় (সোদপুর), জেলা: উত্তর ২৪ পরগণা,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।