শ্রোতাদের মতামত
‘রেডিও তেহরানের ব্যবস্থাপনা ও পার্সটুডে ওয়েবসাইট দেখে আমি মুগ্ধ’
রেডিও তেহরান-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনে ও পার্সটুডে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ে জানতে পেরেছি যে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন শ্রোতা হিসেবে জানতে পেরেছি, রেডিও তেহরান ১৯৫৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রচারিত হয়েছিল এবং রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল শুভারাম্ভ।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ যেখানে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, দৈনিক খবরের কাগজের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে নিচ্ছে সেই স্থানে রেডিও তেহরানের ব্যবস্থাপনা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। যেমন রেডিও স্টেশন রয়েছে সেই সাথে রয়েছে পার্সটুডে নামক একটি ওয়েব মাধ্যম। পার্সটুডে ওয়েবসাইটে দৃষ্টিপাত করলে আন্তর্জাতিক বহু খবর শুনে ও পড়ে ওয়াকিবহল হওয়া যায়। পার্সটুডে ওয়েবসাইট খুললেই বিভিন্ন ধরনের চমকপ্রদ অনুষ্ঠান শোনা যায় এবং সেগুলো পড়াও যায়।
এখানে পাওয়া যায়- বিশ্বের বিভিন্ন খবর, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাদেশ, ভারতের সংবাদ পড়া যায়। ইসলামিক বিভিন্ন ধরণের লেখাও খবর পড়া যায়। সব থেকে বেশি মনকে দোলা দেয় ‘শ্রোতাদের মতামত’ বিভাগ ও 'চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন' অনুষ্ঠান। চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন বিভাগে চিঠিপত্র লিখে পত্র লেখকদের মনের কৌতুহল বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান বিভিন্ন গণমাধ্যমের যুগে কলমে কাগজে চিঠিপত্র লেখার যে অবলুপ্তি ঘটে চলেছে সেই স্থানে রেডিও তেহরান চিঠিপত্রের আসার প্রিয়জন বিভাগে নিত্যনতুন চিঠিপত্র পাঠ করে শ্রোতাদের মধ্যে দিনকে দিন কৌতুহল বাড়িয়ে চলেছে এবং আনন্দ দিয়ে চলেছে। পাঠক ও শ্রোতাদের মধ্যে চিঠিপত্র বিভাগ সবথেকে আকর্ষণীয় বলা যায়। রেডিও তেহরান চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন বিভাগে প্রতিটি লেখককেই প্রিয় করে তোলে।
পার্সডুটে ওয়েব মাধ্যমে আমি বিভিন্ন ধরণের লেখা পড়ার সুযোগ পেয়েছি। তার মধ্যে শিশু-কিশোরদের উপযোগী ও চমকপ্রদ অনুষ্ঠান ‘রংধনু আসর’-এ "হাতেম তাঈ'র মহানুভবতা" পড়ে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে মুগ্ধ হয়েছি।
লেখাটি পড়ে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি- "ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত দানবীর হাতেম তাঈ ছিলেন তৎকালীন আরবের ইয়েমেন প্রদেশের একজন অত্যন্ত জ্ঞানী মানুষ । তাঁর পুরো নাম জানালাম- হাতেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবন সাদ আত-তাঈ ।....তাঈ বংশ ছিল আরবের উত্তর-পশ্চিমের হাইল অঞ্চলের শাসক। হাতেম তাঈ ছিলেন ওই গোত্রের প্রধান এবং তিনি ইসলাম-পূর্ব ৫৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আদি ইবনে হাতেম গোত্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।.....বিখ্যাত ফারসি কবি শেখ সাদি তাঁর গুলিস্তানে লিখেছেন, ‘হাতিম তাঈ বেঁচে নেই কিন্তু তাঁর নাম তাঁর সদগুণের জন্য চিরকাল বিখ্যাত হয়ে থাকবে।"
এছাড়াও পার্সটুডে গণমাধ্যমে ‘আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল’ পর্বভিত্তিক লেখাগুলো পড়ে ভালো লেগেছে। এমনকি ভালোলাগারই একটা বিষয়। মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই কর্তব্য। ১০ নম্বর পর্ব থেকে কিছু ভালোলাগা বাক্য তুলে ধরছি- "যে কোনো ভালো কাজের ব্যাপারে উৎসাহ ও স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা মানব প্রকৃতির এক স্বাভাবিক দিক।.....শিশুরা কোনো ভালো কাজের জন্য উৎসাহ পেলে তারা ওই কাজ নিয়মিত করবে দায়িত্বপূর্ণ বৈধ কাজ হিসেবে এবং তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হবে।" এই ধরণের আরো সুন্দর সুন্দর লেখা পার্সটুডে আমাদের উপহার দিয়ে থাকবে আশা করি ।
পবিত্র কুরআনের তাফসির বিষয়ক অনুষ্ঠান 'কুরআনের আলো' পর্বভিত্তিক লেখাগুলো পড়লেই যেমন জ্ঞানের বিকাশ ঘটে তেমনি পড়েও মুগ্ধতা বাড়ে। এই পর্বভিত্তিক অনুষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৮৭৮ পর্বে পৌঁছে শৃঙ্গ জয় করেছে বলে আমার মনে হয়। গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের খবর পড়ার পাশাপাশি পর্যায় ক্রমে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা সমস্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়কে উদ্বুদ্ধ করে তোলে এমনকি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করে তোলে।
‘ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস’ প্রথম থেকে পর্বভিত্তিক পড়ে বহু জানা অজানা ইতিহাস জানা যায়।
পার্সটুডে গণমাধ্যমে ‘গল্প ও প্রবাদের গল্প’ অনুষ্ঠানটি শুনলে এবং লেখাগুলো পড়লে জানা যায় যে, ইরান প্রাচীন সভ্যতার একটি দেশ।... এ দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি যে বেশ সমৃদ্ধ তা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে বিশ্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাহিত্য সংস্কৃতির নেপথ্য প্রেরণা ছিল ইরানের সাহিত্।
সাহিত্য সংস্কৃতিতে ইরান সাহিত্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রেডিও তেহরান বা পার্সটুডে গণমাধ্যমে এ ‘সুস্থ পরিবার’, ‘জীবনশৈলী’ অনুষ্ঠান বা বিভাগের পাশাপাশি এই গণমাধ্যম ‘স্বাস্থ্যকথা'র নিদান দিয়ে থাকে। বর্তমান করোনাভাইরাস এর করালগ্রাস বাঁচতে সুস্থ না থাকতে পারলে কোন কিছুই লিখে ওঠা সম্ভব নয় এমনকি অনুষ্ঠান শোনাও সম্ভব নয়।
সবমিলিয়ে পরিশেষে বলা যায় রেডিও তেহরানের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে দেখলাম অডিও ক্লিপিং-এর সাথে লেখাগুলি টাইপ করেও পোস্ট করা থাকে যার ফলে অডিওগুলো ডাউনলোড করে শোনা যায় এবং লেখাগুলেঅ অন্য যেকোনো সময়ে পড়ার সুযোগ থাকছে। এই উদ্যোগটি সবথেকে প্রশংসনীয় এবং বাহবা যোগ্য ।
আরও উল্লেখযোগ্য যেসব শ্রোতা গঠনমূলক চিঠি বা প্রবন্ধ লিখে পাঠান তাদের মধ্য থেকে প্রতি মাসে একজন করে শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচন করে থাকে রেডিও তেহরান। নির্বাচিত শ্রোতার জন্য থাকে বিশেষ পুরস্কার। ২০২০ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়েছে শ্রোতাদের জন্য এই প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ। যা শ্রোতাদেরকে মতামত লিখতে আগ্রহী করে ।
তাই আমিও লিখে পাঠালাম এই প্রবন্ধটি। রেডিও তেহেরান আগামীতে আরো আরো নতুন কিছু অনুষ্ঠান নিয়ে আসবে আশা করা যায়। সবাই সুস্থ থাকবেন। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছান্তে,
মুন্সি দরুদ
সিউড়ি পুলিশ লাইনস্
সিউড়ি, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭