‘সৌদি আরব ক্রমান্বয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে’
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i103492-সৌদি_আরব_ক্রমান্বয়ে_ইসলাম_থেকে_দূরে_সরে_যাচ্ছে’
আমার অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, দর্পন, কথাবার্তা এবং গল্প ও প্রবাদের গল্প ছিল অন্যতম। এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিই আমাদের খুব ভালো লেগেছে, তবে বেশ কিছু কারণে অধিক ভালো লেগেছে দর্পন। কেন দর্পন ভালো লাগল, সেকথাই লিখব আজকের এ চিঠিতে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২ ০৮:২৫ Asia/Dhaka
  • ‘সৌদি আরব ক্রমান্বয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে’

আমার অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে ২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, দর্পন, কথাবার্তা এবং গল্প ও প্রবাদের গল্প ছিল অন্যতম। এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিই আমাদের খুব ভালো লেগেছে, তবে বেশ কিছু কারণে অধিক ভালো লেগেছে দর্পন। কেন দর্পন ভালো লাগল, সেকথাই লিখব আজকের এ চিঠিতে।

দর্পন রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান। চলতি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয় এ অনুষ্ঠানটিতে। ওইদিনের দর্পনে আফগানিস্তানে দায়েশের উত্থান, আক্রমণ, হামলা ও নিরাপত্তার হুমকি এবং এতে আজ পাকিস্তানের উগ্র ওহাবি-সালাফি গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের কারণ ও তাদের প্রতি কয়েকটি আরব দেশের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন আকতার জাহান ও নাসির মাহমুদ। তাঁদের সাবলীল উপস্থাপনায় তথ্যবহুল এ অনুষ্ঠানটি খুব ভালো লেগেছে।
আগে আফগানিস্তানে ওহাবি-সালাফিরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি মূলতঃ তাদের মাজার-বিদ্বেষী ভূমিকার কারণে। কারণ আফগানিস্তানের মুসলমানেরা মাজারকে শ্রদ্ধা করেন এবং তারা সুফিবাদ দ্বারা প্রভাবিত। ১৯৭৮ সালের আগে কান্দাহারে তাদের মাত্র একটি মসজিদ ছিল। এছাড়া আফগানিস্তানের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ওহাবি-সালাফিদের ঘৃণা করত।
পাকিস্তানে প্রথম মৌলানা তাহের ওহাবি-সালাফিদের প্রশ্রয় দেন। কিন্তু আফগানিস্তানের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগে ওহাবি-সালাফিরা পাকিস্তানের পাখতুন প্রদেশ ও আফগান আদিবাসী অধ্যূষিত এলাকায় নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়। আফগানিস্তানে কমিউনিষ্ট অভ্যুত্থানের পর সেখানে ওহাবি-সালাফিরা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। আর এর মাধ্যমে সেখানে সৌদি প্রভাবও বৃদ্ধি পায়।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে ওহাবি-সালাফিরা আফগানিস্তানে প্রভাব বাড়াতে থাকে। এরজন্য তারা সেখানে অনেক মাদ্রাসা স্থাপন করে, মসজিদ গড়ে তুলে। গড়ে তুলে জিহাদি গ্রুপ। এসব জিহাদি গ্রুপে বহু আরব স্বেচ্ছাসেবী যোগদান করে। সৌদি আরব মূলতঃ ইরান এবং পাকিস্তান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য ওহাবি-সালাফি উগ্রবাদী সংগঠনকে সমর্থন ও মদদ দিতে থাকে।
অনুষ্ঠানটি শোনার পর সৌদি আরব সম্পর্কে পুনর্মূল্যায়ন করার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রচুর সৌদি ভক্ত রয়েছেন, যারা সৌদি আরবকে ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে জানেন, ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। কিন্তু আমাদের প্রিয় মহানবীর জন্মস্থান সৌদি আরব যে ইসলাম থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাচ্ছে, সে খবর এদেশের ভাই-বোনেরা জানেন না। আজকের প্রতিবেদন তাদের চক্ষু খুলে দেবে বলেই মনে করি। সেজন্য অনুষ্ঠানটির জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না।  

ধন্যবাদান্তে,
শরিফা আক্তার পান্না
অর্থ-সম্পাদক, আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব, কিশোরগঞ্জ

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।