হিজবুল্লাহ'র প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ'র শুক্রবারের ভাষণ
'পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতে ইসরাইল ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে দেখাচ্ছে'
লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ নতুন ইসায়ি সনে গত ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মত ভাষণ দিয়েছেন।
ওই ভাষণে তিনি গাজার চলমান যুদ্ধ, ইসরাইলের সন্ত্রাসী হামলায় হামাসের উপপ্রধান আলআরুরি'র শাহাদাত এবং ইরানের কেরমানে দায়েশ বা কথিত আইএস গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
হিজবুল্লাহর প্রধান এটা তুলে ধরেছেন যে সংগ্রামী দলগুলো তথা প্রতিরোধকামী ফিলিস্তিনিরা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল গণহত্যা বা জাতিগত নির্মূল অভিযান অব্যাহত রাখলেও ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
হিজবুল্লাহর প্রধান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা গত তিন মাসে ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চলে ৬৭০টিরও বেশি অভিযান চালিয়েছে। আর এতে বহু দখলদার ইসরাইলি সেনা নিহত এবং প্রায় ১২ হাজার ইসরাইলি সেনা পঙ্গু হয়েছে ও বহু ইহুদিবাদী সেনা আহত হয়েছে। ইসরাইল তার ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে দেখাচ্ছে বলেও হিজবুল্লাহ প্রধান উল্লেখ করেছেন। পরাজয়ের অনুভূতি ও লজ্জা ঢাকতেই ইসরাইল এমন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইসরাইল দক্ষিণের রণাঙ্গনে প্রকৃত লাঞ্ছনার মুখে রয়েছে বলেও সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের সমানুপাতিক জবাব দিচ্ছে না লেবাননের কারো কারো এমন আপত্তি প্রসঙ্গে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেছেন, এখন ইসরাইলি অবস্থানে যেসব হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ সেসব হামলার কোনো একটি হামলা চালানো হলেও অতীতে ইসরাইল এর জবাবে বৈরুতে হামলা চালাত, কিন্তু এখন আর সেই সাহস নেই ইসরাইলের। প্রতিরোধ অক্ষ বেশ কয়েক বছর আগেই এই সমীকরণ সৃষ্টি করেছে।
হিজবুল্লাহর প্রধান হামাসের উপপ্রধান সালাহ আল আরুরির শাহাদাতের ঘটনাকে ইসরাইলের বিপজ্জনক ও বড় ধরনের আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ অবশ্যই ইসরাইলের এই অপরাধের জবাব দেবে। এরিমধ্যে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের এক গুরুত্বপূর্ণ বড় সেনা ঘাঁটিতে ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ওই সন্ত্রাসের আংশিক জবাব দেয়া হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে।
ইরানের কেরমান শহরে দায়েশের পরিচালিত সন্ত্রাসী বোমা হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে হিজবুল্লাহর প্রধান বলেছেন, দায়েশ মার্কিন সরকারের গড়া গোষ্ঠী এবং মার্কিন সরকারের পক্ষ হতেই কেরমানে ওই সন্ত্রাসী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। দায়েশ বা কথিত আইএস ওই হামলা চালানোর দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গত বুধবারের ওই আত্মঘাতী হামলায় ৯১ জন শহীদও ১৪০ জনেরও বেশি আহত হন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।