গাজায় ‘ঘোষিত বা অঘোষিত’ কোনো লক্ষ্য অর্জন করেনি ইসরাইল: নাসরুল্লাহ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i133330-গাজায়_ঘোষিত_বা_অঘোষিত’_কোনো_লক্ষ্য_অর্জন_করেনি_ইসরাইল_নাসরুল্লাহ
ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে ‘নজিরবিহীন’ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং এই উপত্যকায় ১০০ দিন ধরে ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও তার কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতরাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ মন্তব্য করেন।  
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ১৫, ২০২৪ ০৬:০৬ Asia/Dhaka
  • সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ
    সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ

ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে ‘নজিরবিহীন’ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং এই উপত্যকায় ১০০ দিন ধরে ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও তার কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতরাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ মন্তব্য করেন।  

তিনি বলেন, ইসরাইল গাজায় তার ‘ঘোষিত কিংবা অঘোষিত’ কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, ১০০ দিনের ভয়াবহ গণহত্যা সহ্য করার পরও ইসরাইলি আগ্রাসনের মোকাবিলায় গাজাবাসী এতটা বিস্ময়করভাবে অটল ও অবিচল রয়েছে যা ফিলিস্তিনের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরাইল তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্থাৎ হামাসকে ধ্বংস করার বাসনা পূরণ করতে পারেনি। আর তার অঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে, গাজাকে পুরোপুরি দখল করা, এখানকার ২৩ লাখ অধিবাসীকে বিতাড়িত করে ইহুদিবাদীদের জন্য সমুদ্রসৈকতীয় বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা।  তিনি বলেন, দখলদার সেনারা এসব লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।

'যুদ্ধকে আমেরিকা ও ইসরাইল ভয় পায়, আমরা নই'

হিজবুল্লাহ অক্টোবর থেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফ্রন্ট খুলে বসেছে জানিয়ে নাসরুল্লাহ বলেন, আমরা যেমন যুদ্ধকে ভয় পাই না তেমনি আমেরিকা ও ইসরাইলের হুমকিতেও ভীত নই। যুদ্ধকে যারা ভয় পায় তারা হচ্ছে- ইসরাইল, এর ইহুদিবাদী অধিবাসী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা।

মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন তার সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়ে বিপদে আছে বলে জানান হিজবুল্লাহ মহাসচিব। তিনি বলেন, গাজার প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে সহযোগিতা করা এবং ওই উপত্যকায় আগ্রাসন বন্ধ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কাজেই আগে গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং তারপর লেবানন নিয়ে কথা বলতে হবে।

'নিজের ক্ষয়ক্ষতি গোপন করছে ইসরাইল'

সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তার ভাষণে বলেন, গাজা উপত্যকায় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে ব্যাপকভাবে মার খাচ্ছে ইহুদিবাদী সেনারা। কিন্তু তাদের ক্ষয়ক্ষতি গোপন রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যখন ইসরাইলিদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত হতে শুরু করবে তখন এই দখলদার সরকারের মূল বিপর্যয় শুরু হবে।

'বাইডেনের মূর্খতা শিগগিরই ফাঁস হয়ে যাবে'

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা ইয়েমেনে সাম্প্রতিক ইঙ্গো-মার্কিন হামলার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন শিগগিরই উপলব্ধি করবে যে, তারা কতটা মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে।  সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ বলেন, বাইডেন ও তার পরামর্শদাতারা যদি ভেবে থাকে হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের হুথিদেরকে গাজাবাসীর প্রতি সমর্থন  জানানো থেকে বিরত রাখা যাবে তাহলে বলতে হবে তাদের মতো নির্বোধ ও গবেট আর পৃথিবীতে নেই। ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেন নিজেদেরকে ‘চরম মূর্খ’ হিসেবে তুলে ধরেছে। ভাষণের শেষাংশে তিনি গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।#

পার্সটুডে/এমএমআই/এমএআর/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।