শিশু-ঘাতকের তালিকা থেকে সৌদিকে বাদ দেয়ায় বিশ্বের ৭৩ অধ্যাপকের নিন্দা
-
বান কি মুন (বায়ে) ও রাজা সালমান
বিশ্বের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ জন অধ্যাপক জাতিসংঘের ঘোষিত শিশু-ঘাতক সরকারগুলোর তালিকা থেকে সৌদি সরকারের নাম সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বান কি মুনের কাছে চিঠি লিখেছেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন শিশু-অধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারগুলোর কালো তালিকা থেকে সৌদি সরকারের নাম সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সৌদি সরকার জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচিতে অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়ার পর বান কি মুন ওই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, এই ৭৩ জন অধ্যাপক ইয়েমেনের শিশু হত্যায় সৌদি হামলার কথা তুলে ধরে প্রশ্ন করেছেন, জাতিসংঘ যদি এই ধরনের অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব পালন না করে তাহলে কোন্ আন্তর্জাতিক সংগঠন সৌদি সরকার ও তার মিত্রদেরকে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে?
এই ৭৩ অধ্যাপক ইয়েমেনের স্কুলগুলোতে বার বার সৌদি আরবের বিমান হামলা ও ইয়েমেনি শিশুদের ওপর ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা বর্ষণের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন। সৌদি সরকারের এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধ-অপরাধের শামিল বলেও তারা বান কি মুনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শিশু-অধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারগুলোর কালো তালিকা থেকে সৌদি সরকারের নাম সরিয়ে নেয়া না হলে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে বলে হুমকি দিয়েছে সে প্রসঙ্গে এই অধ্যাপকরা লিখেছেন: সৌদি সরকার জানে কিভাবে তার সম্পদকে জাতিসংঘের মত অকার্যকর বিশ্ব-সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার কাজে অপব্যবহার করা যায়।
সৌদি সরকার ও তার মিত্ররা মার্কিন এবং ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা নিয়ে অবরুদ্ধ ইয়েমেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলে তারা চিঠিতে মন্তব্য করেছেন। এইসব পদক্ষেপ বিশ্বের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের সঙ্গে পরিহাস-তুল্য এবং সেগুলো সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন, মানবতা, যুক্তি ও সুস্থ-বিবেকের বিরোধী বলেও তারা ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
এই অধ্যাপকদের অনেকেই আমেরিকার হার্ভার্ড, কলম্বিয়া, জর্জটাউন ও প্রিন্সটন এবং ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। #
পার্সটুডে/মু.আ. হুসাইন/৪