তুর্কি অভ্যুত্থানের পর মুখ খুললেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
-
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, তুরস্কের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা বিরোধী লোকজনকে উচ্ছেদের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সাম্প্রতিক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করতে পারেন।
লেবাননের বিশিষ্ট রাজনীতিক নাজাহ ওয়াকিমের নেতৃত্বে দামেস্ক সফররত একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল (রোববার) বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট আসাদ এ কথা বলেন। নাজাহ ওয়াকিম হচ্ছেন লেবাননের পিপল’স মুভমেন্টের সভাপতি।
তুরস্কের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে আসাদ বলেন, দেশটিতে কী হচ্ছে তার পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না এবং সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। এ ঘটনায় তুরস্কের সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদেরকে নির্মূলের জন্য এরদোগান এ অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করবেন না তার নিশ্চয়তা নেই। এরইমধ্যে এরদোগানসহ ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই বলেছেন, যারা এই সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এছাড়া, তুরস্কে সন্দেহভাজনের নামে গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল ফ্রান্স বলেছে, “সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনাকে এরদোগান যেন ‘ব্ল্যাংক চেক’ হিসেবে ব্যবহার না করেন।”
নাজাহ ওয়াকিমের সঙ্গে বৈঠকে আশার আসাদ আরো বলেন, তার দেশের চলমান সংঘাতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে যুদ্ধের ময়দানে। এ ক্ষেত্রে কোনো রকমের আপস করা হবে না বলে তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যারা সংঘাতে লিপ্ত তারা সবাই বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী।
সিরিয়ার সংঘাতে সরকারকে সহযোগিতার জন্য তিনি লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, পশ্চিমা ও বিভিন্ন আরব দেশের সরকার গোপনে তার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা করতে চাইছেন এমনকি তারা দামেস্কে সিকিউরিটি মিশনও চালুর প্রস্তাব দিচ্ছেন। এসব দেশ বলেছে, আমেরিকা ও সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হবে সে কারণে তারা আসদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি গোপন রাখতে চায়। এসব প্রস্তাবের জবাবে আসাদ বলেছেন, যদি তারা সিরিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে তবেই নিরাপত্তা সহযোগিতা নেয়া হবে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৮